প্রতিবাদের মুখে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিকের সঙ্গে সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রভাব এবার পড়েছে চট্টগ্রামের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ থেকে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁরা।
আয়োজকদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনার ১৭ দিন আগে পরীমনির সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ঢাকা আদালত চত্বরে সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। গণমাধ্যমকর্মীকে অসম্মান করার অভিযোগ এবং চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদের পর আয়োজক কমিটি তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পরীমনিকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। ওই দিন পরীমনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর একটি পোস্টার শেয়ার করে লেখেন, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’ পোস্টটি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন সাংবাদিকরা।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক ফারুক মুনির পরীমনির ফেসবুক ওয়াল থেকে পোস্টারটি নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। দৈনিক সমকালের সাংবাদিক রবির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা না করলে বিকল্প অতিথি খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এরপর দ্রুতই বিষয়টি চট্টগ্রামে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের একাংশের প্রতিবাদ ও আপত্তির মুখে আয়োজকদের ওপর চাপ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পরীমনিকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের নতুন পোস্টার প্রকাশ করা হয়।
আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা রয়েছে।
প্রতিবাদের প্রভাব ও আয়োজকদের অবস্থান
ঘটনাটি কেবল একজন অতিথিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক, জনপরিসরে তারকাদের আচরণ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। একজন শিল্পীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও জনমতের চাপ ও পেশাজীবীদের প্রতিবাদের কারণে আয়োজকদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা—বিনোদন অঙ্গনের অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সামনে আসাও জরুরি। সাংবাদিকের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য কী এবং বিষয়টি সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া বিতর্কের সব দিক স্পষ্ট হয় না।
আপাতত আয়োজকদের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েছেন পরীমনি। তবে এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রভাব তৈরি হলেও, সংশ্লিষ্ট বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করবে পারস্পরিক বক্তব্য, ক্ষমা চাওয়া এবং বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগের ওপর।



























