ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শীত নামতেই সক্রিয় মানবপাচার চক্র, পাহাড়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি মানুষ বাড়িতে সুগার মাপেন? খালি পেটে ও খাবারের পর মাত্রা কত থাকা উচিত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপে ট্রাম্প কারিগরি জটিলতায় বাড়ল এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জের সময় ডিসেম্বরেই কোনো আপার এই দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত প্রতিবাদের মুখে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি সাংবাদিক লিয়াকত হোসাইন লায়নের পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭

বাড়িতে সুগার মাপেন? খালি পেটে ও খাবারের পর মাত্রা কত থাকা উচিত

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন। তবে দিনের কোন সময়ে সুগার মাপছেন, তার ওপর পরীক্ষার ফল ভিন্ন হতে পারে। খালি পেটে, খাবার খাওয়ার পর কিংবা গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা—প্রতিটি পরীক্ষাই শরীরের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাই শুধু একবারের পরীক্ষার ফল দেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না।

ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকেরা সাধারণত ফাস্টিং ব্লাড সুগার, খাবারের পরের রক্তে শর্করা এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র এসব পরীক্ষার গুরুত্ব ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

খালি পেটে ও খাবারের পরের সুগার পরীক্ষা

ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ পরীক্ষায় শরীর খাবার গ্রহণ না করার সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পরের সুগার পরীক্ষা করা হয় সাধারণত খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এতে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

কোন মাত্রাকে স্বাভাবিক বলা হয়?

চিকিৎসক আশিস মিত্রের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

  • খালি পেটে সুগার: তাঁর দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী, ১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ১১০ থেকে ১২৫ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ১২৬ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।
  • খাবারের দুই ঘণ্টা পর: ১৪০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ১৪০ থেকে ১৯৯ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ২০০ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
  • এইচবিএ১সি: গত প্রায় তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার ধারণা দেয় এই পরীক্ষা। ৫ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বেশি হলে ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পড়ে।

শুধু একবার সুগার মাপলেই কি যথেষ্ট?

চিকিৎসক আশিস মিত্রের মতে, যাঁরা বাড়িতে নিয়মিত সুগার মাপেন, তাঁদের শুধু দিনে একবার পরীক্ষা করলে চলবে না। সময় ও খাবারের ধরন পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে সুগার পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে ও খাবারের দুই ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এইচবিএ১সি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। এর কারণ, দিনের অন্য সময়ে—যেমন সকালের নাশতা বা রাতের খাবারের পর—সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু শুধু দুপুরের খাবারের পর পরীক্ষা করলে সেই পরিবর্তন ধরা পড়ে না।

কখনো রক্তে শর্করা কমে গিয়ে ক্ষুধা লাগতে পারে। তখন বেশি খাবার খাওয়ার পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে খাবারের দুই ঘণ্টা পর সুগার পরীক্ষা করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা সম্পর্কে তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়।

সুগার কমে গেলেও বিপদ

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। তাঁর মতে, সুগার ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার পর্যায়। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০-এর ওপরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য গ্লুকোমিটারের একটি রিডিং যথেষ্ট নয়। পরীক্ষার ধরন, ল্যাবরেটরির ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন মিলিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। একইভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষ্য মাত্রাও বয়স, ওষুধ ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাড়িতে সুগার মাপেন? খালি পেটে ও খাবারের পর মাত্রা কত থাকা উচিত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন। তবে দিনের কোন সময়ে সুগার মাপছেন, তার ওপর পরীক্ষার ফল ভিন্ন হতে পারে। খালি পেটে, খাবার খাওয়ার পর কিংবা গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা—প্রতিটি পরীক্ষাই শরীরের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাই শুধু একবারের পরীক্ষার ফল দেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না।

ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকেরা সাধারণত ফাস্টিং ব্লাড সুগার, খাবারের পরের রক্তে শর্করা এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র এসব পরীক্ষার গুরুত্ব ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

খালি পেটে ও খাবারের পরের সুগার পরীক্ষা

ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ পরীক্ষায় শরীর খাবার গ্রহণ না করার সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পরের সুগার পরীক্ষা করা হয় সাধারণত খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এতে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

কোন মাত্রাকে স্বাভাবিক বলা হয়?

চিকিৎসক আশিস মিত্রের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

  • খালি পেটে সুগার: তাঁর দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী, ১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ১১০ থেকে ১২৫ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ১২৬ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।
  • খাবারের দুই ঘণ্টা পর: ১৪০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ১৪০ থেকে ১৯৯ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ২০০ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
  • এইচবিএ১সি: গত প্রায় তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার ধারণা দেয় এই পরীক্ষা। ৫ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বেশি হলে ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পড়ে।

শুধু একবার সুগার মাপলেই কি যথেষ্ট?

চিকিৎসক আশিস মিত্রের মতে, যাঁরা বাড়িতে নিয়মিত সুগার মাপেন, তাঁদের শুধু দিনে একবার পরীক্ষা করলে চলবে না। সময় ও খাবারের ধরন পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে সুগার পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে ও খাবারের দুই ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এইচবিএ১সি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। এর কারণ, দিনের অন্য সময়ে—যেমন সকালের নাশতা বা রাতের খাবারের পর—সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু শুধু দুপুরের খাবারের পর পরীক্ষা করলে সেই পরিবর্তন ধরা পড়ে না।

কখনো রক্তে শর্করা কমে গিয়ে ক্ষুধা লাগতে পারে। তখন বেশি খাবার খাওয়ার পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে খাবারের দুই ঘণ্টা পর সুগার পরীক্ষা করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা সম্পর্কে তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়।

সুগার কমে গেলেও বিপদ

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। তাঁর মতে, সুগার ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার পর্যায়। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০-এর ওপরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য গ্লুকোমিটারের একটি রিডিং যথেষ্ট নয়। পরীক্ষার ধরন, ল্যাবরেটরির ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন মিলিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। একইভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষ্য মাত্রাও বয়স, ওষুধ ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।