তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দীপের চার দিনের রিমান্ড

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত তাহসিফ তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাঁকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পায়, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহালের সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ তাহসিফকে নিজের সিনিয়র বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো এখনো আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ ও পুলিশের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।
রিমান্ড আবেদনে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, তাহসিফের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
শুনানির সময় দীপকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।























