ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা এইচএসসির পাসের হারে বড় পতন, ফেল ৬ লাখ ২৩ হাজারের বেশি এইচএসসির ফলে বোর্ডভেদে পাসের হার কত, এগিয়ে ঢাকা পাবনায় সর্বহারা দলের কথিত ক্যাম্প কমান্ডার গ্রেপ্তার, উদ্ধার দেশীয় অস্ত্র এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ করবেন যেভাবে, আবেদন ১ নভেম্বর থেকে তাহসিফের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী এইচএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ খাবারের স্বাদে মোগল ঐতিহ্য, সন্ধ্যাজুড়ে সুফি সংগীত ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যানসার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিন

পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

এইচএসসির পাসের হারে বড় পতন, ফেল ৬ লাখ ২৩ হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এবার অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন। পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ২৯ হাজার

এবার ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

এর আগে ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে তাঁদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে মোট পরীক্ষার্থী ও পাস-ফেলের হিসাবের মধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।


অনলাইনে ও এসএমএসে ফল জানার সুযোগ


শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখতে পারবেন eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে EIIN ব্যবহার করে অনলাইনে ফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এবার এসএমএসে ফল জানার নম্বরেও পরিবর্তন এসেছে। আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা গেলেও এবার পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।

এসএমএসে ফল জানতে লিখতে হবে: HSC বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর রোল নম্বর 2026। এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026।

বন্যায় পিছিয়েছিল কয়েকটি বোর্ডের পরীক্ষা

গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে সেসব পরীক্ষা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ হয়।

এরপর থেকে ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

তবে এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। এই ফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি কিংবা বোর্ডভিত্তিক পার্থক্যের কী ভূমিকা রয়েছে, তা জানতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু পাসের হার কমেছে বলেই শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা যাবে না; শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

এইচএসসির পাসের হারে বড় পতন, ফেল ৬ লাখ ২৩ হাজারের বেশি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এবার অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন। পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ২৯ হাজার

এবার ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

এর আগে ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে তাঁদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে মোট পরীক্ষার্থী ও পাস-ফেলের হিসাবের মধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।


অনলাইনে ও এসএমএসে ফল জানার সুযোগ


শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখতে পারবেন eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে EIIN ব্যবহার করে অনলাইনে ফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এবার এসএমএসে ফল জানার নম্বরেও পরিবর্তন এসেছে। আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা গেলেও এবার পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।

এসএমএসে ফল জানতে লিখতে হবে: HSC বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর রোল নম্বর 2026। এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026।

বন্যায় পিছিয়েছিল কয়েকটি বোর্ডের পরীক্ষা

গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে সেসব পরীক্ষা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ হয়।

এরপর থেকে ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

তবে এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। এই ফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি কিংবা বোর্ডভিত্তিক পার্থক্যের কী ভূমিকা রয়েছে, তা জানতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু পাসের হার কমেছে বলেই শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা যাবে না; শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা জরুরি।