ইনানীর রিসোর্টে আগুনে প্রাণ গেল ১০ জনের, আহত ৯

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও নয়জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধার অভিযান চালান। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন নিহতের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং ফায়িজান আহম্মেদ (৫) রয়েছেন। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ও রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের ভাষ্য, আগুন লাগার পর ধোঁয়া দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত পর্যটকেরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন বের হতে পারলেও অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও নয়জনকে। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছয়টি কক্ষে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। রেফ্রিজারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রিসোর্টটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে থাকতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিসোর্টটিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুলিশও আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করছে।




















