ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কতটা?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের মূল উৎপাদনব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মঙ্গলবারের হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর নেই। আগুন লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় তেল উৎপাদন বা সরবরাহে কী প্রভাব পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর তেল শোধনাগার এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ওঠার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত, আহত চার

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুই নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।

এদিকে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় প্রাণহানির খবর না থাকলেও ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একটি সূত্র। তবে তেল শোধনাগারের সামগ্রিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাল্টা হামলা ইয়েমেনে

আরামকোতে হামলার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি এলাকায় হামলা চালায়। জোটের দাবি, হাউথিদের সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করে এমন জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে হাউথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল।

এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশিত হয়। ধারাবাহিক এসব হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ: আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে সীমিত অগ্নিকাণ্ড, ভবনের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত এবং সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আহত হয়েছেন চারজন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। তবে তেল উৎপাদন বা রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কতটা?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের মূল উৎপাদনব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মঙ্গলবারের হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর নেই। আগুন লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় তেল উৎপাদন বা সরবরাহে কী প্রভাব পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর তেল শোধনাগার এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ওঠার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত, আহত চার

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুই নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।

এদিকে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় প্রাণহানির খবর না থাকলেও ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একটি সূত্র। তবে তেল শোধনাগারের সামগ্রিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাল্টা হামলা ইয়েমেনে

আরামকোতে হামলার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি এলাকায় হামলা চালায়। জোটের দাবি, হাউথিদের সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করে এমন জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে হাউথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল।

এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশিত হয়। ধারাবাহিক এসব হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ: আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে সীমিত অগ্নিকাণ্ড, ভবনের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত এবং সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আহত হয়েছেন চারজন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। তবে তেল উৎপাদন বা রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।