তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে চায় নেদারল্যান্ডস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী পরিচালনা এবং চর উন্নয়নেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় দেশটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বদ্বীপের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার প্রতিও বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময় এখন। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী পরিচালনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী নদীব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও দুই পক্ষের আলোচনা হয়। বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ জানায়, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।
এ ছাড়া কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমীন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























