জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৪৮ ঘণ্টায় ভর্তি ১৫৬ রোগী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪৮ ঘণ্টায় জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫৬ জন রোগী। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা ছাড়িয়ে ওয়ার্ডের মেঝে ও দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৮৮ জন ভর্তি হন। এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮২ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ৪২ জন ছাড়পত্র পাওয়ায় রোববার সকাল ৮টায় রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮ জনে।
এরপর রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরও ৬৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। একই সময়ে আগের রোগীদের মধ্যে ৪৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এতে সোমবার সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৯ জনে। পরবর্তী দেড় ঘণ্টায় আরও ১২ জন ভর্তি হলে সকাল পৌনে ১০টায় মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬১ জনে।
হাসপাতালের প্রথম ভবনে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি। অথচ বর্তমানে সেখানে রোগী রয়েছেন শয্যাসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে উপচে পড়ছে ওয়ার্ড ও বারান্দা। শয্যায় রোগীদের পাশাপাশি মেঝেতেও অনেকে শুয়ে আছেন। নার্সরা দ্রুত রোগীদের স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করছেন। রোগীদের স্বজনদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় ভিড় তৈরি হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের গোড়না এলাকা থেকে দুই বছর দুই মাস বয়সী ছেলে মহিরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মোছা. আফছা। তিনি বলেন, ছেলের হঠাৎ পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে ঘন ঘন পায়খানা হতে থাকলে একপর্যায়ে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর এলাকা থেকে আসা রোগী আব্দুল হালিমের মেয়ে জয়নুক পারভীন বলেন, তাঁর বাবার হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। শুক্রবার রাতে তাঁকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জয়নুক পারভীন বলেন, “এখানে এসে কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে তাঁর চিকিৎসা চলছে।”
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিক আহমদ জেবাল বলেন, হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ রয়েছে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খোলা, বাসি বা নষ্ট খাবার খাওয়া এবং দূষিত পানি পান করার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ জন্য সবাইকে খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। খোলা ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

























