বিসর্জনে ড্রোন-হেলিকপ্টারে নজরদারি, ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। প্রতিমা বিসর্জনের দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নজরদারি, বিশেষ টহল, চেকপোস্ট এবং ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকবে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমী শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে পূজামণ্ডপ, মন্দির, জনবহুল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং জরুরি সেবার জন্য হটলাইন চালু রয়েছে। মণ্ডপকেন্দ্রিক নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরসাইকেল টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার উইংও নজরদারি চালাবে।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসআরবির সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট এবং বিশেষ টহল দল কাজ করবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে উল্লেখ করে তিনি জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। তথ্যদাতাদের পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
তিন স্তরের নিরাপত্তায় পুলিশ
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাক্-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
আইজিপি আরও বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
মাঠে থাকবেন ২ লাখের বেশি আনসার সদস্য
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) মো. আইয়ুব আলী জানান, দুর্গাপূজা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিমা নির্মাণস্থান, পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শনসহ আগাম নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সারা দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা এবং অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও জানান।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ অ্যাপ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে। এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি।
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপ দুর্গাপূজার নিরাপত্তার কাজেও ব্যবহার করা হবে। এ জন্য জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।























