অটোরিকশা-ই-বাইক চলাচলে আসছে জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীতে অটোরিকশা ও ই-বাইকের চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রং ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন করে অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগও থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোন থাকবে—উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি। অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে চারটি জোনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
জোনভেদে অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, একটি জোনের রিকশা যদি সবুজ রঙের হয়, অন্য জোনে থাকবে কমলা রঙের। এভাবে চারটি জোনে চার ধরনের রং ব্যবহার করা হবে।
এর ফলে কোন জোনের অটোরিকশা কোথায় চলাচল করবে, তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত চলে যেতে পারে। অটোরিকশার এমন অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করতেই জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জোনে কতটি অটোরিকশার প্রয়োজন, প্রথমে সেই চাহিদার তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জোনে যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে যারা অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা রাজধানীতে ঢুকে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে বা মানুষের চলাচলে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। ফলে এটি কেবল অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সরকারের প্রধান শক্তি জনগণ। তাই কোনো ধরনের অরাজকতা বা অপশক্তি মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


























