ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগা-কাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওসি বদলি, খুলশীতে ৬ মাসে ৫ ওসি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক থানায় এত দ্রুত ওসি বদলি কেন? চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মাত্র ৬ মাস ১৪ দিনে পাঁচবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ বদলিটি এসেছে আরও আলোচনার জন্ম দিয়ে—সিটি করপোরেশনে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করা হয়েছে ওসি আবদুর রহিমকে।

চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য, মাদক, খুন ও পুলিশি আচরণ নিয়ে একের পর এক ঘটনায় এমনিতেই আলোচনায় ছিল খুলশী থানা। তার সঙ্গে যোগ হলো ঘনঘন ওসি বদলের বিষয়টি।

বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তেজনা

গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে যান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, বগা নয়, তাঁর দুই ভাই সিটি করপোরেশনে এসেছিলেন। সিটি করপোরেশন সবার জন্য উন্মুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়রের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীদের অনেকে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এরপর এক দিন না পেরোতেই বদলি করা হয় আবদুর রহিমকে।

নতুন ওসি কামরুজ্জামান

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত আদেশে আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানকে খুলশী থানার নতুন ওসি করা হয়।

একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—মাত্র ১ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালন করা একজন ওসিকে কেন এত দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হলো?

ছয় মাসে পাঁচ ওসি

খুলশী থানার ওসি বদলের হিসাবটি আরও চমকপ্রদ। গত ২৫ মার্চ ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করা হয়। তাঁর স্থলে পুলিশ লাইন্স থেকে মো. আরিফুর রহমানকে খুলশী থানার ওসি করা হয়।

এরপর ১৩ জুন আরিফুর রহমানকেও বদলি করা হয়। তাঁর স্থলে বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইয়মানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু সোলাইয়মানও বেশিদিন থাকতে পারেননি। দায়িত্ব নেওয়ার এক দিন পরই তাঁকে বদলি করে সিটিএসবিতে পাঠানো হয়। তাঁর স্থলে দায়িত্ব পান সিটিএসবির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক।

২৩ আগস্ট রাতে মোজাম্মেল হককেও খুলশী থেকে সরিয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঠানো হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পান সিটিএসবির পরিদর্শক আবদুর রহিম।

আর এবার বগা-কাণ্ডের পর আবদুর রহিমও বদলি। অর্থাৎ ছয় মাস ১৪ দিনে পাঁচজন ওসি।

নাঈম হাসান-কাণ্ডেও ওসি বদলি

খুলশী থানায় ওসি বদলের পেছনে আলোচিত আরেকটি ঘটনা জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ।

গত ১২ জুন রাতে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে খুলশী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সিএমপি একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এসআই মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে।

এরপর রাতেই ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

বগা কে?

ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে এর আগে খুলশী এলাকায় অভিযান চালানো হলে তাঁর অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ। ওই সময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশের দাবি, চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে বগার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে বগার বাবা মো. জাবেদ গত ১৩ সেপ্টেম্বর আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।

কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বেও উত্তপ্ত খুলশী

শুধু বগাকে ঘিরে নয়, কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তপ্ত ছিল খুলশী। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনায় আট কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, দুই কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহত হৃদয় ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আটজন ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য।

পুলিশের দাবি, ওয়াকিল হোসেন বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি ‘সেভেন স্টার’ গ্যাং পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিজয়, কামরান ও শান্তর নেতৃত্বে ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাং পরিচালিত হয় বলে পুলিশের দাবি।

প্রশ্ন এখন একটাই

চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, খুন—একটির পর একটি ঘটনায় আলোচনায় আসছে খুলশী থানা। তার মধ্যেই মাত্র ৬ মাস ১৪ দিনে পাঁচবার ওসি বদলি।

সবশেষে বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবারও ওসি পরিবর্তন।

প্রশ্ন তাই থেকেই যাচ্ছে—খুলশী থানায় এত ঘনঘন নেতৃত্ব বদলের পেছনে আসলে কী কারণ? এটি কি প্রশাসনিক স্বাভাবিক বদলি, নাকি ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে? এর উত্তর মিলবে কেবল স্বচ্ছ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বগা-কাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওসি বদলি, খুলশীতে ৬ মাসে ৫ ওসি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

এক থানায় এত দ্রুত ওসি বদলি কেন? চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মাত্র ৬ মাস ১৪ দিনে পাঁচবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ বদলিটি এসেছে আরও আলোচনার জন্ম দিয়ে—সিটি করপোরেশনে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করা হয়েছে ওসি আবদুর রহিমকে।

চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য, মাদক, খুন ও পুলিশি আচরণ নিয়ে একের পর এক ঘটনায় এমনিতেই আলোচনায় ছিল খুলশী থানা। তার সঙ্গে যোগ হলো ঘনঘন ওসি বদলের বিষয়টি।

বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তেজনা

গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে যান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, বগা নয়, তাঁর দুই ভাই সিটি করপোরেশনে এসেছিলেন। সিটি করপোরেশন সবার জন্য উন্মুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়রের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীদের অনেকে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এরপর এক দিন না পেরোতেই বদলি করা হয় আবদুর রহিমকে।

নতুন ওসি কামরুজ্জামান

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত আদেশে আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানকে খুলশী থানার নতুন ওসি করা হয়।

একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—মাত্র ১ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালন করা একজন ওসিকে কেন এত দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হলো?

ছয় মাসে পাঁচ ওসি

খুলশী থানার ওসি বদলের হিসাবটি আরও চমকপ্রদ। গত ২৫ মার্চ ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করা হয়। তাঁর স্থলে পুলিশ লাইন্স থেকে মো. আরিফুর রহমানকে খুলশী থানার ওসি করা হয়।

এরপর ১৩ জুন আরিফুর রহমানকেও বদলি করা হয়। তাঁর স্থলে বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইয়মানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু সোলাইয়মানও বেশিদিন থাকতে পারেননি। দায়িত্ব নেওয়ার এক দিন পরই তাঁকে বদলি করে সিটিএসবিতে পাঠানো হয়। তাঁর স্থলে দায়িত্ব পান সিটিএসবির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক।

২৩ আগস্ট রাতে মোজাম্মেল হককেও খুলশী থেকে সরিয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঠানো হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পান সিটিএসবির পরিদর্শক আবদুর রহিম।

আর এবার বগা-কাণ্ডের পর আবদুর রহিমও বদলি। অর্থাৎ ছয় মাস ১৪ দিনে পাঁচজন ওসি।

নাঈম হাসান-কাণ্ডেও ওসি বদলি

খুলশী থানায় ওসি বদলের পেছনে আলোচিত আরেকটি ঘটনা জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ।

গত ১২ জুন রাতে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে খুলশী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সিএমপি একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এসআই মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে।

এরপর রাতেই ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

বগা কে?

ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে এর আগে খুলশী এলাকায় অভিযান চালানো হলে তাঁর অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ। ওই সময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশের দাবি, চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে বগার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে বগার বাবা মো. জাবেদ গত ১৩ সেপ্টেম্বর আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।

কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বেও উত্তপ্ত খুলশী

শুধু বগাকে ঘিরে নয়, কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তপ্ত ছিল খুলশী। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনায় আট কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, দুই কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহত হৃদয় ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আটজন ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য।

পুলিশের দাবি, ওয়াকিল হোসেন বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি ‘সেভেন স্টার’ গ্যাং পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিজয়, কামরান ও শান্তর নেতৃত্বে ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাং পরিচালিত হয় বলে পুলিশের দাবি।

প্রশ্ন এখন একটাই

চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, খুন—একটির পর একটি ঘটনায় আলোচনায় আসছে খুলশী থানা। তার মধ্যেই মাত্র ৬ মাস ১৪ দিনে পাঁচবার ওসি বদলি।

সবশেষে বগাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবারও ওসি পরিবর্তন।

প্রশ্ন তাই থেকেই যাচ্ছে—খুলশী থানায় এত ঘনঘন নেতৃত্ব বদলের পেছনে আসলে কী কারণ? এটি কি প্রশাসনিক স্বাভাবিক বদলি, নাকি ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে? এর উত্তর মিলবে কেবল স্বচ্ছ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায়।