ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে টিকিট ছাড়তেই উধাও, সিলেটে ট্রেনের টিকিট যেন ‘সোনার হরিণ’

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইনে টিকিট আসার কথা, অথচ যাত্রীর হাতে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও! সিলেটে ট্রেনের টিকিট নিয়ে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেগুলো আর পাওয়া যায় না।

ফলে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকিট পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। কারও অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট কেটে নিচ্ছে একটি চক্র; পরে সেগুলোই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ এবার গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

টিকিট মিলছে না ৫-৮ দিন আগেও

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা রুটের ট্রেনের টিকিট ৫-৬ দিন আগেও পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা সিলেট-চট্টগ্রাম রুটেও—অনেক সময় ৭-৮ দিন আগেও টিকিট মেলে না।

অনলাইনে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ছাড়ার পরপরই সেগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

তাদের প্রশ্ন—টিকিট যদি সাধারণ যাত্রীদের জন্যই হয়, তাহলে অনলাইনে আসার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এত দ্রুত সব টিকিট চলে যাচ্ছে কোথায়?

দালাল চক্রের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিপুলসংখ্যক টিকিট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরে সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

আদালতে স্বপ্রণোদিত মামলা

ট্রেনের টিকিট নিয়ে এমন অভিযোগের পর বিষয়টি আদালতের নজরেও এসেছে। সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নুমান স্বপ্রণোদিত হয়ে সিলেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলাটি মিস মামলা নং-০১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

মামলায় টিকিটসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্দেশ পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে—অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর সেগুলো এত দ্রুত শেষ হওয়ার নেপথ্যে আসলে কী ঘটছে।

ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাড়ছে ভোগান্তি

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিটসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক সাধারণ যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে।

এতে বাড়ছে সময় ও খরচ—দুটিই। বিশেষ করে সড়কে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার কাজ চলমান থাকায় যানজট ও ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বাস ছেড়ে ট্রেনমুখী মানুষ, কিন্তু টিকিট কোথায়?

সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ ভ্রমণ এড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক মানুষ বাসের তুলনায় ট্রেনকে বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু সেই ট্রেনের টিকিটই যদি অনলাইনে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ যাত্রী যাবেন কোথায়?

টিকিট ছাড়ার পর কারা আগে টিকিট পাচ্ছেন, কীভাবে পাচ্ছেন এবং সাধারণ যাত্রীরা কেন টিকিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত হবে এবং সিলেটের ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিড়ম্বনার অবসান ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনলাইনে টিকিট ছাড়তেই উধাও, সিলেটে ট্রেনের টিকিট যেন ‘সোনার হরিণ’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইনে টিকিট আসার কথা, অথচ যাত্রীর হাতে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও! সিলেটে ট্রেনের টিকিট নিয়ে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেগুলো আর পাওয়া যায় না।

ফলে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকিট পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। কারও অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট কেটে নিচ্ছে একটি চক্র; পরে সেগুলোই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ এবার গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

টিকিট মিলছে না ৫-৮ দিন আগেও

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা রুটের ট্রেনের টিকিট ৫-৬ দিন আগেও পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা সিলেট-চট্টগ্রাম রুটেও—অনেক সময় ৭-৮ দিন আগেও টিকিট মেলে না।

অনলাইনে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ছাড়ার পরপরই সেগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

তাদের প্রশ্ন—টিকিট যদি সাধারণ যাত্রীদের জন্যই হয়, তাহলে অনলাইনে আসার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এত দ্রুত সব টিকিট চলে যাচ্ছে কোথায়?

দালাল চক্রের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিপুলসংখ্যক টিকিট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরে সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

আদালতে স্বপ্রণোদিত মামলা

ট্রেনের টিকিট নিয়ে এমন অভিযোগের পর বিষয়টি আদালতের নজরেও এসেছে। সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নুমান স্বপ্রণোদিত হয়ে সিলেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলাটি মিস মামলা নং-০১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

মামলায় টিকিটসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্দেশ পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে—অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর সেগুলো এত দ্রুত শেষ হওয়ার নেপথ্যে আসলে কী ঘটছে।

ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাড়ছে ভোগান্তি

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিটসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক সাধারণ যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে।

এতে বাড়ছে সময় ও খরচ—দুটিই। বিশেষ করে সড়কে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার কাজ চলমান থাকায় যানজট ও ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বাস ছেড়ে ট্রেনমুখী মানুষ, কিন্তু টিকিট কোথায়?

সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ ভ্রমণ এড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক মানুষ বাসের তুলনায় ট্রেনকে বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু সেই ট্রেনের টিকিটই যদি অনলাইনে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ যাত্রী যাবেন কোথায়?

টিকিট ছাড়ার পর কারা আগে টিকিট পাচ্ছেন, কীভাবে পাচ্ছেন এবং সাধারণ যাত্রীরা কেন টিকিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত হবে এবং সিলেটের ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিড়ম্বনার অবসান ঘটবে।