প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
শেষ হলো এক অধ্যায়। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলার নিজের বাসভবনে গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
ভোরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
‘গমন’ থেকে কিংবদন্তির যাত্রা
১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়ের পথচলা শুরু করে ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় প্রবেশ করেন তিনি।
এরপর চার দশকের বেশি সময় ধরে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন নানা। তীব্র অভিব্যক্তি, শক্তিশালী সংলাপ এবং চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছিল স্বতন্ত্র এক অভিনেতা।
তিন জাতীয় পুরস্কার, পদ্মশ্রীও
নানা পাটেকর তাঁর অভিনয়জীবনে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘পরিন্দা’ ছবির জন্য ১৯৮৯ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। পরে ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ‘ক্রান্তিবীর’-এর জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
গম্ভীর ও তীব্র চরিত্রের পাশাপাশি কমেডিতেও নিজের আলাদা ছাপ রেখেছেন নানা। ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেঠি চরিত্র তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। ‘নটসম্রাট’সহ মারাঠি সিনেমার একাধিক কাজেও তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়।
শুধু অভিনেতা নন, পরিচালকও
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক, লেখক ও থিয়েটারকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। অভিনয়ের বাইরে সামাজিক কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে কৃষক ও খরাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর উদ্যোগ ও নাম ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড আলোচিত হয়েছে।
হঠাৎ থেমে গেল এক স্বতন্ত্র কণ্ঠ
কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর এমন এক অভিনয়শৈলী তৈরি করেছিলেন, যার সঙ্গে বলিউড ও মারাঠি সিনেমায় খুব কম অভিনেতাকেই তুলনা করা যায়।
‘ক্রান্তিবীর’-এর তীব্রতা, ‘নটসম্রাট’-এর আবেগ কিংবা ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেঠি—প্রতিটি চরিত্রেই যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন তিনি।
৭৫ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়; ভারতীয় সিনেমার এক স্বতন্ত্র অভিনয়-অধ্যায়েরও সমাপ্তি।






















