জয়পুরহাটে কলার দামে ধস, বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা লোকসান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
কয়েকদিন আগেও যে কলার এক কাঁদি বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, সেই কলাই এখন মিলছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। হঠাৎ বাজারে এমন দরপতনে বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের শত শত কলাচাষি। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক কৃষককে গুনতে হচ্ছে লোকসান।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ বাড়ার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেট নয়; সারা দেশে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কলার বাজারে ধস নেমেছে।
৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৮০৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৭০৫ হেক্টর জমিতে।
এ বছর জেলায় মোট ৩১ হাজার ৮১ মেট্রিক টন কলা উৎপাদনের তথ্য জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। মানিক, সাগর ও চিনিচাম্পা জাতের কলার ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর হঠাৎ কমে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
১ হাজার টাকার কলা এখন ৩০০-৩৫০
কৃষকদের ভাষ্য, কিছুদিন আগেও প্রতি কাঁদি বা ঘাউর কলা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে একই পরিমাণ কলার দাম নেমে এসেছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায়।
অন্যদিকে এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারদরে সেই জমির কলা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
ফলে বিঘাপ্রতি অন্তত ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
‘পানির দামে কলা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি’
আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের কয়েকজন চাষির অভিযোগ, বাজারে কলার সরবরাহ বেশি দেখে কিছু আড়তদার ও ব্যবসায়ী একসঙ্গে কলা কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, শুরুতে ব্যবসায়ীরা কলা না কিনে অপেক্ষা করেন। পরে দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে কলা বিক্রি করেন। এভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দাম কমানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
কৃষকদের আশঙ্কা, আলু ও ধানের পর কলার বাজারেও বড় ধরনের লোকসান হলে অনেক চাষি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইতোমধ্যে কেউ কেউ লোকসান এড়াতে কলাগাছ কেটে জমিতে ধান চাষ শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ‘সিন্ডিকেট নয়’
তবে কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কোনো সিন্ডিকেট করে কলার দাম কমানো হয়নি।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ বছর শুধু জয়পুরহাট নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে কলার সরবরাহ বেড়ে গেছে। বিপরীতে ঢাকা ও অন্যান্য বড় মোকামে চাহিদা কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম পড়ে গেছে। এমনকি কৃষকদের কাছ থেকে কলা কিনে মোকামে পাঠিয়েও অনেক সময় আড়তদারদের লোকসান হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, কৃষকরা যাতে উৎপাদিত কলার ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি করা হচ্ছে।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও বাজারদরের এমন পতনে হতাশ কলাচাষিরা। তাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে কলা চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকরা।
























