ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘদিন বন্ধ, নতুন পরিকল্পনায় ফিরছে সিলেটের জালালাবাদ সিটি পার্ক

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা সিলেটের জালালাবাদ পার্ক আবারও প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। এবার নতুন পরিকল্পনায় পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর এর নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।

শুধু শিশুদের বিনোদনের জায়গা নয়, নতুন পরিকল্পনায় পার্কটিকে সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা ভাবছে সিসিক। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা, বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্যিক ভবন থেকে পার্ক—বারবার বদলেছে পরিকল্পনা

জালালাবাদ পার্কের জায়গাটি নিয়ে সিসিকের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০৫ সালে সেখানে ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।

পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জায়গাটিকে পার্ক হিসেবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়েছিল।

এরপর পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি সম্মুখভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নাগরিকদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কের উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা নষ্ট করতে পারে।

এবার সব বয়সী মানুষের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পার্কটি নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন। নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগও থাকবে।

এ ছাড়া পার্কে থাকবে বসার জায়গা, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।

অবস্থানেই বাড়তি গুরুত্ব

সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৯৪ শতকের এই উদ্যানের অবস্থান। পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস, অন্য পাশে জেলা পরিষদ। সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর।

এ কারণে শুধু নগরবাসী নয়, সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও জায়গাটির আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

‘দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে’

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ সময় কাটাতে যান।

জালালাবাদ পার্কও দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানোর কথা জানান প্রশাসক।

এবার প্রশ্ন, টেকসই হবে তো?

জালালাবাদ পার্ক ঘিরে অতীতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হয়নি। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শুরু করে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা—পরিবর্তন এসেছে বারবার।

তাই এবার নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু নাম পরিবর্তন বা সৌন্দর্যবর্ধনের মধ্যেই যেন উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং পার্কের উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এই উদ্যানকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জালালাবাদ সিটি পার্ক সত্যিই যদি সব বয়সী মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি সবুজ অবকাশকেন্দ্রে পরিণত হয়, তবেই নতুন এই উদ্যোগের সার্থকতা মিলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দীর্ঘদিন বন্ধ, নতুন পরিকল্পনায় ফিরছে সিলেটের জালালাবাদ সিটি পার্ক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা সিলেটের জালালাবাদ পার্ক আবারও প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। এবার নতুন পরিকল্পনায় পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর এর নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।

শুধু শিশুদের বিনোদনের জায়গা নয়, নতুন পরিকল্পনায় পার্কটিকে সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা ভাবছে সিসিক। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা, বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্যিক ভবন থেকে পার্ক—বারবার বদলেছে পরিকল্পনা

জালালাবাদ পার্কের জায়গাটি নিয়ে সিসিকের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০৫ সালে সেখানে ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।

পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জায়গাটিকে পার্ক হিসেবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়েছিল।

এরপর পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি সম্মুখভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নাগরিকদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কের উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা নষ্ট করতে পারে।

এবার সব বয়সী মানুষের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পার্কটি নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন। নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগও থাকবে।

এ ছাড়া পার্কে থাকবে বসার জায়গা, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।

অবস্থানেই বাড়তি গুরুত্ব

সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৯৪ শতকের এই উদ্যানের অবস্থান। পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস, অন্য পাশে জেলা পরিষদ। সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর।

এ কারণে শুধু নগরবাসী নয়, সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও জায়গাটির আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

‘দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে’

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ সময় কাটাতে যান।

জালালাবাদ পার্কও দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানোর কথা জানান প্রশাসক।

এবার প্রশ্ন, টেকসই হবে তো?

জালালাবাদ পার্ক ঘিরে অতীতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হয়নি। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শুরু করে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা—পরিবর্তন এসেছে বারবার।

তাই এবার নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু নাম পরিবর্তন বা সৌন্দর্যবর্ধনের মধ্যেই যেন উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং পার্কের উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এই উদ্যানকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জালালাবাদ সিটি পার্ক সত্যিই যদি সব বয়সী মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি সবুজ অবকাশকেন্দ্রে পরিণত হয়, তবেই নতুন এই উদ্যোগের সার্থকতা মিলবে।