ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনভর বিক্ষোভ; আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা, পরে মুক্তি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে দিনভর বিক্ষোভে সরব ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের উদ্দেশে মিছিল, পুলিশের বাধা, অবস্থান ও আটকের ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত ছিল রাজধানী।

প্রায় নয় ঘণ্টার কর্মসূচির পর রাতে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মিছিল থেকে অবস্থান, তারপর আটক

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ সাংসদ।

রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলেসহ বিরোধী দলের আরও অনেক নেতা।

নির্বাচন সদনের কাছাকাছি নীতি আয়োগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সেখানেই অবস্থান শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। এ সময় প্রিয়ঙ্কাসহ কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আকাশবাণী ভবনের সামনেও পুলিশের বাধা

এরপর রাহুল গান্ধী আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভেতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ।

একপর্যায়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন সাংসদ সেখানে পৌঁছান। আকাশবাণী ভবনের সামনে বসেই বিক্ষোভ চালিয়ে যান তাঁরা।

দুপুরে সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।

রাহুলের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত ও জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে দেশকে হাইজ্যাক করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

‘৩০০ সাংসদ দেখা করতে চাইছেন, তবু কমিশন নীরব’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ সাংসদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের আটকে দিয়েছে।

রাহুলের প্রশ্ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগই না দেওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?

‘টেনে বাসে তোলা হয়েছে’—কংগ্রেসের অভিযোগ

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কাকে আটক করা হয়। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও জানান, তাঁকে আটক করে বাসে তোলা হয়েছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশ রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও তাঁকে টেনে বাসে তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেছে দলটি।

পরে বাসের জানালা দিয়ে রাহুলকে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

খড়্গের অভিযোগ, ‘একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে’

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, তাঁদের আন্দোলন অবিচারের বিরুদ্ধে।

তার অভিযোগ, স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরকারের ‘হাতের পুতুল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খড়্গের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে দেশে একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে এবং এর বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও সরব অভিষেক

মিছিল থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে ৯০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে এখনো বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন অভিষেক। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের ‘চুরি’ ধরা পড়ে গেছে।

অখিলেশের নিশানায় নির্বাচন কমিশন

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দিনভর মিছিল, পুলিশের বাধা, অবস্থান ও একাধিক দফায় আটকের পর রাতের দিকে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ল, দিনের ঘটনাপ্রবাহে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দিনভর বিক্ষোভ; আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা, পরে মুক্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে দিনভর বিক্ষোভে সরব ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের উদ্দেশে মিছিল, পুলিশের বাধা, অবস্থান ও আটকের ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত ছিল রাজধানী।

প্রায় নয় ঘণ্টার কর্মসূচির পর রাতে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মিছিল থেকে অবস্থান, তারপর আটক

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ সাংসদ।

রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলেসহ বিরোধী দলের আরও অনেক নেতা।

নির্বাচন সদনের কাছাকাছি নীতি আয়োগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সেখানেই অবস্থান শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। এ সময় প্রিয়ঙ্কাসহ কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আকাশবাণী ভবনের সামনেও পুলিশের বাধা

এরপর রাহুল গান্ধী আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভেতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ।

একপর্যায়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন সাংসদ সেখানে পৌঁছান। আকাশবাণী ভবনের সামনে বসেই বিক্ষোভ চালিয়ে যান তাঁরা।

দুপুরে সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।

রাহুলের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত ও জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে দেশকে হাইজ্যাক করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

‘৩০০ সাংসদ দেখা করতে চাইছেন, তবু কমিশন নীরব’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ সাংসদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের আটকে দিয়েছে।

রাহুলের প্রশ্ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগই না দেওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?

‘টেনে বাসে তোলা হয়েছে’—কংগ্রেসের অভিযোগ

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কাকে আটক করা হয়। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও জানান, তাঁকে আটক করে বাসে তোলা হয়েছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশ রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও তাঁকে টেনে বাসে তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেছে দলটি।

পরে বাসের জানালা দিয়ে রাহুলকে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

খড়্গের অভিযোগ, ‘একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে’

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, তাঁদের আন্দোলন অবিচারের বিরুদ্ধে।

তার অভিযোগ, স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরকারের ‘হাতের পুতুল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খড়্গের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে দেশে একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে এবং এর বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও সরব অভিষেক

মিছিল থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে ৯০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে এখনো বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন অভিষেক। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের ‘চুরি’ ধরা পড়ে গেছে।

অখিলেশের নিশানায় নির্বাচন কমিশন

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দিনভর মিছিল, পুলিশের বাধা, অবস্থান ও একাধিক দফায় আটকের পর রাতের দিকে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ল, দিনের ঘটনাপ্রবাহে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।