বিমান ধ্বংসই ছিল লক্ষ্য? ‘মৃত্যুকে ভয় পাই না’—জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান ছিনতাই করে যাত্রীসহ ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ওমানের এই নাগরিক নাকি বলেছেন, ‘মৃত্যুকে ভয় পাই না’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সৌদি তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান মাঝ আকাশে বিপদের মুখে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পাইলট হামাম বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন অপর পাইলট স্মিত। এ সময় ককপিটে থাকা একটি কুঠার দিয়ে হামাম তাকে আঘাত করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন বিমানের অপর সদস্যরা। পাইলটের সাহসিকতা ও ক্রুদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ককপিটে দুই পাইলটের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই কি এমন ঘটনা ঘটেছিল? তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্তে বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
২৯ বছর বয়সী হামাম আল-হামামিকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়ার পর দেশটির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলও জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি ইসরায়েলও তদন্ত করছে। হামামির সঙ্গে কোনো সংগঠন বা বহিরাগত শক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি ধ্বংস করে ইসরায়েলি নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্য ছিল হামামির।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। উগ্র ও কট্টরপন্থী মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার কারণে ওমান কর্তৃপক্ষ এর আগে হামামির বিমান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে সেই তথ্য গোপন করে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পেছনে হামামির প্রকৃত উদ্দেশ্য, তার সঙ্গে কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না এবং কীভাবে তিনি বিমান সংস্থায় নিয়োগ পেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
























