‘দুই কোটি টাকা দেন, সই করে দেব’: পিডিবির সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুরে ঘুষ গ্রহণ ও কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
নুরুল আমিন লক্ষ্মীপুর পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর ঘুষ গ্রহণ ও কথোপকথনের দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শেখ ফিরোজ কবির।
তিনি জানান, এ ঘটনায় নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল ১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম ইকবালকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘস লেনদেনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়। ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে করা তা নিশ্চিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়,‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেবো।’
এদিকে ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সোমবার কার্যালয়ে আসেননি নুরুল আমিন। বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিক কল করেও সাড়া মেলেনি। এবিষয়ে ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখ খুলতে রাজি হননি।
লক্ষ্মীপুর সদরের ৪ জন ঠিকাদার জানায়, লক্ষ্মীপুরে যোগদানের পর থেকে নুরুল আমিন কমিশন বাণিজ্যে বেপরোয়া ছিল। নামে-বেনামে তিনি কোটি কোটি টাকা করে করে আত্মসাৎ করেছেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া, জটিলতা দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। তিনি মাঝেমধ্যে অফিস করতেন না।
ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নুরুল আমিনের সরকারি বাসভবনে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি। পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোন প্রেক্ষাপটে টাকা লেনদেনের ঘটনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে তিনি ওইসব ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখানে কত? ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার’।





















