সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগতে পারে আদালতের অনুমতি, নতুন সিদ্ধান্ত

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নিয়ে বড় ধরনের সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনটি কোনোভাবেই যেন নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয় এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে এর অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, অংশীজনদের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতেই আইনটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গণমাধ্যমের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের জন্য আসছে বিশেষ সুরক্ষা?
সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উঠে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সরকার প্রস্তাবটিকে ‘উপযুক্ত ও যুক্তিসঙ্গত’ মনে করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ার পর বিষয়টি সংশোধিত বিলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া মামলা বা আপিল নিষ্পত্তিতে যাতে কাউকে অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকতে না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
‘মিডিয়াকে টার্গেট করে আইন নয়’
সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে আইনে গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
খসড়া নিয়ে আবারও হবে মতামত
সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে আরও বিস্তৃতভাবে আইটি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী, সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মতামত পাঠিয়েছে, যা সরকার সংকলন করেছে।
১০ সেপ্টেম্বর সম্পাদকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকের পর এবার গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হলো। সভায় অনেকে লিখিত মতামত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
১৫ দিনের মধ্যে আসবে সুপারিশ
আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করতে একটি সমন্বিত কাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) এ প্রক্রিয়ায় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কার্যক্রম সমন্বয় করবে। সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিরাও এতে যুক্ত থাকবেন।
আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট সুপারিশ নেওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা বসে খসড়াটি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
সংসদে গেলেও তাড়াহুড়ো নয়
সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পর্যালোচনার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বিলটি জাতীয় সংসদে যাবে। তবে সংসদে গেলেও দ্রুত পাস করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরের সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
কী লক্ষ্য সরকারের?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের লক্ষ্য একদিকে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে নাগরিক ও গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রণয়নের কথা জানিয়েছে সরকার।
অর্থাৎ, খসড়া আইনটি এখনো চূড়ান্ত নয়। বরং ধারাবাহিক আলোচনা, মতামত ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে।





















