বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনধারী প্রধানমন্ত্রীর মাইনে বাড়ল ৬০ শতাংশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীদের একজন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। এবার তাঁর বেতন আরও ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই হারে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেতনও বাড়ছে।
সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই উচ্চ বেতন কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে বিপুল এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, লরেন্স ওংয়ের বার্ষিক বেতনের মানদণ্ড ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৭ কোটি টাকা।
একইভাবে উপপ্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতনের মানদণ্ড ১৮ দশমিক ৭ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার হচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় এটি প্রায় ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে দায়িত্ব ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দেশটির মন্ত্রীরা বছরে ১৮ লাখ থেকে ২৮ দশমিক ৮ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বেতন পাবেন। অর্থাৎ মন্ত্রীদের বেতনও বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মধ্যে থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা আরও বাড়ছে।
সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতন নিয়ে অবশ্য নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির সরকার যুক্তি দিয়ে আসছে, প্রতিযোগিতামূলক ও উচ্চ বেতন কাঠামোর মাধ্যমে মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করা সম্ভব। আর যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত হলে এর সুফল হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় রাজনৈতিক নেতাদের বেতন এত বেশি হওয়া কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে নতুন করে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
তবে সমালোচনার বিষয়টি যে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের অজানা নয়, সেটিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ তিনি পাবেন, তার পুরোটা উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করবেন।
ওং স্বীকার করেছেন, তাঁর বর্ধিত বেতনের পরিমাণ সিঙ্গাপুরের অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন এবং বিষয়টি নিয়ে শক্ত অবস্থান নেবেন—এটি তিনি বুঝতে পারেন।
তারপরও নিজের অবস্থানে অটল সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চ বেতন কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সুশাসন ও প্রশাসনিক দক্ষতা আরও শক্তিশালী করাই লক্ষ্য।























