ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনধারী প্রধানমন্ত্রীর মাইনে বাড়ল ৬০ শতাংশ বিপিসি ও পেট্রোবাংলার রেকর্ড ক্ষতি: বেসরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছে জ্বালানি বাজার নসরুল হামিদ বিপুর মেগা দুর্নীতি: বিদ্যুৎ খাত থেকে ১ লাখ কোটি টাকা লোপাট ২০২৭ থেকে পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাসিনা আমলের নানা ঘটনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর সরকার আপিল বিভাগে নজিরবিহীন ঘটনা: বার সভাপতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি ধান খেতে কীটনাশক স্প্রের বিষাক্ত বাষ্পে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১

বিপিসি ও পেট্রোবাংলার রেকর্ড ক্ষতি: বেসরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছে জ্বালানি বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানির জ্বালাতে অস্থির সারা বিশ্ব। এর কষাঘাতে বেসামাল বাংলাদেশ। জ্বালানি সংকটে পড়ে মারাত্মক ভাবে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর জেরে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মিল-কারখানা। এই সংকট সরকারের জনপ্রিয়তায় আঘাত করেছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যা হচ্ছে তা নিয়েই সুচিত এই প্রতিবেদন।

১. বিশাল আর্থিক লোকসান: বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে। বিশেষভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পেট্রোবাংলা ব্যাপক লোকসান গুনছে।

বিপিসি-র লোকসান: বিশ্ববাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করার ফলে গত অগাস্ট পর্যন্ত গত ছয় মাসে বিপিসি ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে।

পেট্রোবাংলার ব্যয়: এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। চড়া দামে এলএনজি আমদানি করে কম দামে বিক্রি করার ফলে গত ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরেও পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

২. বাজার অস্থিতিশীলতার কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। এই অস্থিরতার মাশুল সরাসরি বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে।

৩. বাজার সংস্কারের উদ্যোগ ও বেসরকারি অংশগ্রহণ: দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। জ্বালানি তেলের বাজারকে সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার এবং এতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অবসান: দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না।

বাজার উন্মুক্তকরণ: সরকার জ্বালানি তেলের বাজার এবার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জ্বালানি খাতে যুক্ত করে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

নীতিমালা প্রণয়ন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি তেলের বাজারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

এই আলোকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি বাজারকে আংশিকভাবে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে একটি বড় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ জ্বালানি সংকট সমাধানে এবং বিপিসির ওপর চাপ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এধরনের আরও পদক্ষেপ সরকারের চাপ কমাতে পারে বলে জনমত সংগঠিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিপিসি ও পেট্রোবাংলার রেকর্ড ক্ষতি: বেসরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছে জ্বালানি বাজার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির জ্বালাতে অস্থির সারা বিশ্ব। এর কষাঘাতে বেসামাল বাংলাদেশ। জ্বালানি সংকটে পড়ে মারাত্মক ভাবে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর জেরে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মিল-কারখানা। এই সংকট সরকারের জনপ্রিয়তায় আঘাত করেছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যা হচ্ছে তা নিয়েই সুচিত এই প্রতিবেদন।

১. বিশাল আর্থিক লোকসান: বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে। বিশেষভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পেট্রোবাংলা ব্যাপক লোকসান গুনছে।

বিপিসি-র লোকসান: বিশ্ববাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করার ফলে গত অগাস্ট পর্যন্ত গত ছয় মাসে বিপিসি ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে।

পেট্রোবাংলার ব্যয়: এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। চড়া দামে এলএনজি আমদানি করে কম দামে বিক্রি করার ফলে গত ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরেও পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

২. বাজার অস্থিতিশীলতার কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। এই অস্থিরতার মাশুল সরাসরি বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে।

৩. বাজার সংস্কারের উদ্যোগ ও বেসরকারি অংশগ্রহণ: দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। জ্বালানি তেলের বাজারকে সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার এবং এতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অবসান: দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না।

বাজার উন্মুক্তকরণ: সরকার জ্বালানি তেলের বাজার এবার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জ্বালানি খাতে যুক্ত করে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

নীতিমালা প্রণয়ন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি তেলের বাজারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

এই আলোকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি বাজারকে আংশিকভাবে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে একটি বড় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ জ্বালানি সংকট সমাধানে এবং বিপিসির ওপর চাপ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এধরনের আরও পদক্ষেপ সরকারের চাপ কমাতে পারে বলে জনমত সংগঠিত হচ্ছে।