সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক করল সরকার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত রপ্তানি পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।
রপ্তানিতে ১০ শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান জাহাজীকরণের আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
প্রতিটি চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণও দিতে হবে।
এ ছাড়া সংশোধিত অনুমোদিত সীমার বেশি কোনোভাবেই চাল রপ্তানি করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।
অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) বা রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসন সনদ দাখিলও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪৫ হাজার টনের অনুমতি, রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তবে ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।
অর্থাৎ অনুমোদিত বিপুল পরিমাণ চালের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানির পরিমাণ ছিল অনেক কম। এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও সম্ভাব্য মূল্যচাপ বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি কোটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
খাদ্য নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেকে নামানোর পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন অনুমোদন পেতে আগের রপ্তানি কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা।























