ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না কমিশন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সীমান্ত না কি রাষ্ট্রীয় নীতি? বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনধারী প্রধানমন্ত্রীর মাইনে বাড়ল ৬০ শতাংশ বিপিসি ও পেট্রোবাংলার রেকর্ড ক্ষতি: বেসরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছে জ্বালানি বাজার নসরুল হামিদ বিপুর মেগা দুর্নীতি: বিদ্যুৎ খাত থেকে ১ লাখ কোটি টাকা লোপাট ২০২৭ থেকে পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাসিনা আমলের নানা ঘটনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর সরকার আপিল বিভাগে নজিরবিহীন ঘটনা: বার সভাপতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সীমান্ত না কি রাষ্ট্রীয় নীতি?

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রাদেশিক রাজনীতি। তিনি বলেছেন, পাঞ্জাবের জন্য বহিরাগত শত্রুর তুলনায় প্রতিবেশী প্রদেশগুলো থেকেই নিরাপত্তা হুমকি বেশি। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মরিয়ম নওয়াজের বক্তব্যের পর কেপির রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা এই প্রদেশের বাসিন্দাদের একটি অংশ মনে করছে, এমন মন্তব্য তাদের প্রতি অন্যায্য ও অবমাননাকর। বিষয়টি নিয়ে দুই প্রদেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বাড়ছে।

তবে বিতর্কের মধ্যে পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, মরিয়ম নওয়াজ কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ বা সেখানকার মানুষকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে জঙ্গিদের অবাধ চলাচল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঝুঁকির কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।

তবে মূল প্রশ্নটি সীমান্ত অতিক্রমের চেয়েও অনেক গভীর। প্রশ্ন হলো—পাকিস্তানে এসব চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্ম ও বিকাশ ঘটল কীভাবে?

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তানের এই নিরাপত্তা সংকটের শিকড় তাদের নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতির ভেতরেই প্রোথিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার্থে ব্যবহার করেছে। আবার কিছু গোষ্ঠীকে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছে। লস্কর-ই-তাইয়েবা বা জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সংগঠনগুলো হঠাৎ কোনো প্রদেশের সীমানা থেকে গজে ওঠেনি। রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়েই এরা নিজেদের শক্তিশালী করেছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে সশস্ত্র চরমপন্থীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই দ্বিচারিতা আজ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল সামরিক শক্তি ও বৈষম্যমূলক নীতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকট মেটানো যায় না। ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর যে বৈষম্য ও সামরিক বলপ্রয়োগ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেশের বিভাজন ডেকে এনেছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে—রাজনৈতিক অধিকার, আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করে কোনো রাষ্ট্রকে কেবল অস্ত্রের মুখে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।

তাই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সমস্যার জন্য প্রতিবেশী প্রদেশ বা স্থানীয় জনগণকে দায়ী করার সুযোগ নেই। এই সংকট দূর করতে হলে পাকিস্তানকে অতীত নীতি ও ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আত্মসমালোচনা করতেই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সীমান্ত না কি রাষ্ট্রীয় নীতি?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রাদেশিক রাজনীতি। তিনি বলেছেন, পাঞ্জাবের জন্য বহিরাগত শত্রুর তুলনায় প্রতিবেশী প্রদেশগুলো থেকেই নিরাপত্তা হুমকি বেশি। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মরিয়ম নওয়াজের বক্তব্যের পর কেপির রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা এই প্রদেশের বাসিন্দাদের একটি অংশ মনে করছে, এমন মন্তব্য তাদের প্রতি অন্যায্য ও অবমাননাকর। বিষয়টি নিয়ে দুই প্রদেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বাড়ছে।

তবে বিতর্কের মধ্যে পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, মরিয়ম নওয়াজ কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ বা সেখানকার মানুষকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে জঙ্গিদের অবাধ চলাচল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঝুঁকির কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।

তবে মূল প্রশ্নটি সীমান্ত অতিক্রমের চেয়েও অনেক গভীর। প্রশ্ন হলো—পাকিস্তানে এসব চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্ম ও বিকাশ ঘটল কীভাবে?

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তানের এই নিরাপত্তা সংকটের শিকড় তাদের নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতির ভেতরেই প্রোথিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার্থে ব্যবহার করেছে। আবার কিছু গোষ্ঠীকে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছে। লস্কর-ই-তাইয়েবা বা জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সংগঠনগুলো হঠাৎ কোনো প্রদেশের সীমানা থেকে গজে ওঠেনি। রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়েই এরা নিজেদের শক্তিশালী করেছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে সশস্ত্র চরমপন্থীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই দ্বিচারিতা আজ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল সামরিক শক্তি ও বৈষম্যমূলক নীতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকট মেটানো যায় না। ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর যে বৈষম্য ও সামরিক বলপ্রয়োগ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেশের বিভাজন ডেকে এনেছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে—রাজনৈতিক অধিকার, আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করে কোনো রাষ্ট্রকে কেবল অস্ত্রের মুখে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।

তাই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সমস্যার জন্য প্রতিবেশী প্রদেশ বা স্থানীয় জনগণকে দায়ী করার সুযোগ নেই। এই সংকট দূর করতে হলে পাকিস্তানকে অতীত নীতি ও ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আত্মসমালোচনা করতেই হবে।