নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্বস্তি, নতুন মৌসুমে শিরোপার লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ফিফার সাময়িক নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে দেশের ফুটবলে। বকেয়া পরিশোধ করে লাইসেন্সিংয়ের প্রাথমিক বাধা পেরিয়েছে আবাহনী লিমিটেড, বসুন্ধরা কিংস ও ইয়াংমেনস ফকিরেরপুল ক্লাব। দেশের ফুটবলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর।
বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীকে ছাড়া ২০২৬-২৭ মৌসুমের পেশাদার লিগের কথা ভাবাই কঠিন। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ শুরুর পর থেকে দুই দলই ছয়বার করে শিরোপা জিতেছে। দেশের ফুটবলে তাদের অবস্থান ও প্রভাবের বড় প্রমাণ এই সাফল্য।
নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিংয়ের আলোচনা পেছনে ফেলে এখন ক্লাবগুলো ব্যস্ত মাঠের প্রস্তুতিতে। নতুন মৌসুম সামনে রেখে দলবদলের বাজারেও শুরু হয়েছে জমজমাট তৎপরতা।
মোহামেডান শুরু থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে দল সাজাচ্ছে। এরই মধ্যে তারা নিশ্চিত করেছে বিদেশি কোচ। অন্যদিকে আবাহনী চমক দেখিয়েছে নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফরোয়ার্ড মাইকেল বাবাতুন্দেকে দলে ভিড়িয়ে।
১৩ দলের অংশগ্রহণে এবারের লিগে কাগজে-কলমে শক্তির হিসাব নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। সাতটি দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকায় এবারের মৌসুম হতে পারে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
২০১৮-১৯ মৌসুমে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দেশের ফুটবলে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে বসুন্ধরা কিংস। শুধু টানা পাঁচটি লিগ শিরোপা জয় নয়, ক্লাবটির উত্থান দেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন এনেছে।
দেশের ফুটবল ইতিহাসে টানা পাঁচবার লিগ শিরোপা জয়ের নজির আর কোনো ক্লাবের নেই। নারী দলসহ কিংসের ট্রফি ক্যাবিনেটে এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে মোট ২০টি শিরোপা—যা দেশের ফুটবলে নিঃসন্দেহে একটি অনন্য অর্জন।
পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে অল্প সময়েই তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ক্লাবটি।
সাম্প্রতিক সময়ের নানা পারিপার্শ্বিক সংকটে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে বসুন্ধরা কিংসকে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
সভাপতি মো. ইমরুল হাসানের ব্যবস্থাপনা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোহবানের অব্যাহত সমর্থনে ক্লাবটি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শুধু ক্লাব পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি কিংসের কার্যক্রম। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির মাধ্যমে বড় পরিসরে ক্রীড়াকাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
আগামী মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের লক্ষ্য আরও বড়—সম্ভাব্য সব ট্রফি নিজেদের করে নেওয়া।
জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় বিদায় নিলেও রবসন রোবিনহোর প্রত্যাবর্তন এবং দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের দল নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে কিংস। বড় স্কোয়াডই দলটিকে বাড়তি মানসিক শক্তি দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে অভিজ্ঞ স্থানীয় কোচিং প্যানেলের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন শুরু হয়েছে। এখন মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই মূল লক্ষ্য।
নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা পেছনে ফেলে বসুন্ধরা কিংস এখন প্রস্তুত নতুন মৌসুমের চ্যালেঞ্জ নিতে। লক্ষ্য একটাই—সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আবারও দেশের ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উঁচুতে তোলা।
























