ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্প বদলে দিল চা-শ্রমিক যুবতীর জীবন ডিসেম্বরে ফিরছেন না শেখ হাসিনা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ৮২৯ স্লিপার বাসই অনুমোদনহীন, বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম পিন্টু স্কুল ফিডিংয়ের রুটি-ডিম খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ শিশু অসুস্থ ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাগানে রেস্ট হাউজ, পরিবেশ সুরক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ আগের সরকারের ১,৩০০ প্রকল্পে চলছে যাচাই-বাছাই: অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আপস নয়: মির্জা ফখরুল গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে নাতি-নাতনিসহ বৃদ্ধের মৃত্যু

ডিসেম্বরে ফিরছেন না শেখ হাসিনা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাঁর সেই ফেরার সম্ভাবনা ততই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আইনি জটিলতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার বিষয়ে গত জুলাইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

কিন্তু সেই ঘোষণার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে বাস্তব কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ফেরার পথে বড় বাধা আইনি জটিলতা

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ফলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সরাসরি আইনি পরিণতির সঙ্গেও যুক্ত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি তাই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগেও নেই দৃশ্যমান প্রস্তুতি

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হলেও দলীয় পর্যায়ে বড় ধরনের প্রস্তুতির খবর সামনে আসেনি। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতা কারাগারে, বিদেশে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে সাংগঠনিকভাবেও আওয়ামী লীগ এখন বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখন আর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আইনি জটিলতা এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে আছে।

সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার যে ঘোষণা শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাবর্তন এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসবে, তাঁর ফেরার বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে কি না—সেদিকেই এখন নজর সবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিসেম্বরে ফিরছেন না শেখ হাসিনা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাঁর সেই ফেরার সম্ভাবনা ততই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আইনি জটিলতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার বিষয়ে গত জুলাইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

কিন্তু সেই ঘোষণার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে বাস্তব কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ফেরার পথে বড় বাধা আইনি জটিলতা

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ফলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সরাসরি আইনি পরিণতির সঙ্গেও যুক্ত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি তাই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগেও নেই দৃশ্যমান প্রস্তুতি

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হলেও দলীয় পর্যায়ে বড় ধরনের প্রস্তুতির খবর সামনে আসেনি। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতা কারাগারে, বিদেশে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে সাংগঠনিকভাবেও আওয়ামী লীগ এখন বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখন আর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আইনি জটিলতা এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে আছে।

সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার যে ঘোষণা শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাবর্তন এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসবে, তাঁর ফেরার বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে কি না—সেদিকেই এখন নজর সবার।