ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প, বড় বরাদ্দ নগর উন্নয়ন-রেলে মরিয়মের মৃত্যু: জামিন মেলেনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ডিবি জয়পুরহাটে কলার দামে ধস, বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা লোকসানে দীর্ঘদিন বন্ধ, নতুন পরিকল্পনায় ফিরছে সিলেটের জালালাবাদ সিটি পার্ক চাঁদাবাজি মামলায় যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সেই নেতা কারাগারে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি ধানখেতের ভেতর দেড় কিলোমিটার দৌড়, শেষ রক্ষা হলো না মাদক ব্যবসায়ীর চোখের জলে শেষ মেসি অধ্যায়, গোল-অ্যাসিস্টে নীল-সাদা জার্সিকে বিদায় নিয়োগপত্র হাতে, তবু প্রাথমিকে যোগ দেননি ৯১৮ জন

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান-সন্ততি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

দান করলেও ভোগাধিকার থাকবে দাতার

বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান বা নাতি-নাতনিকে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলেও দাতার ভোগাধিকার বহাল থাকবে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তর হবে।

সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান হবে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

তবে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত বা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে নতুন এই বিধানের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিরোধী দলের আপত্তি

বিলটির বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা এটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।

তাদের বক্তব্য, বিষয়টি ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিধান বিদ্যমান ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব নাকি বাদ দেব? আমাদের কী বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে?’

বিরোধী দল বিলটির ওপর ভোটে অংশ নেয়নি। বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

‘হেবা বা অছিয়তে প্রভাব পড়বে না’

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনের অধীনে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করা হলে তা কোনোভাবেই হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে না।

অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আইনটি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটির প্রস্তাবে ভোট দেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান-সন্ততি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

দান করলেও ভোগাধিকার থাকবে দাতার

বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান বা নাতি-নাতনিকে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলেও দাতার ভোগাধিকার বহাল থাকবে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তর হবে।

সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান হবে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

তবে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত বা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে নতুন এই বিধানের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিরোধী দলের আপত্তি

বিলটির বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা এটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।

তাদের বক্তব্য, বিষয়টি ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিধান বিদ্যমান ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব নাকি বাদ দেব? আমাদের কী বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে?’

বিরোধী দল বিলটির ওপর ভোটে অংশ নেয়নি। বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

‘হেবা বা অছিয়তে প্রভাব পড়বে না’

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনের অধীনে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করা হলে তা কোনোভাবেই হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে না।

অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আইনটি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটির প্রস্তাবে ভোট দেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।