আগের সরকারের ১,৩০০ প্রকল্পে চলছে যাচাই-বাছাই: অর্থমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আগের সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প একে একে পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি জানান, এসব প্রকল্পের কয়েকটি নিয়ে মামলা ও অন্যান্য আইনগত বিষয়ও চলমান রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
প্রয়োজন নেই এমন প্রকল্প বাদ
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এসব ঋণের দায় এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এরই মধ্যে এসব প্রকল্পের পৃথক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। কিছু প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে, আবার অনেকগুলো এখনো পর্যালোচনার মধ্যবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কিছু প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, সেগুলো এখন বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, এমন প্রকল্পগুলো শেষ করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প নেই।
বিপুল ঋণের চাপ অর্থনীতিতে
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল ঋণের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এসব ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে বাংলাদেশ এর আগে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়নি। ফলে সেই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে কথিত অনিয়মের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সৃষ্ট ঋণের দায়কেও বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সরকারি বিনিয়োগে চার নীতি
সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার চারটি মৌলিক নীতি অনুসরণ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো—
অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’
বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা
আমির খসরুর অভিযোগ, আগের সরকারের অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সরকার এমন প্রকল্পেই বিনিয়োগ করতে চায়, যেখানে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও বাড়ছে চাপ
দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন আর্থিক দায়ের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সংকটও এখন সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদী আমির খসরু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারি অর্থের প্রতিটি বিনিয়োগ থেকে জনগণের জন্য বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। চারটি মৌলিক নীতির ভিত্তিতে নেওয়া নতুন বিনিয়োগগুলো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।






















