প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আপস নয়: মির্জা ফখরুল

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক সংবর্ধনায় ব্যাপক আয়োজন
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সফরের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
দুপুরে সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন তিনি।
এরপর কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। রাতে নিজ বাসভবনেই অবস্থান করবেন রাষ্ট্রপতি।
নিরাপত্তার চাদরে ঠাকুরগাঁও
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকেই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজ বাসভবনে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি।
পরে সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর ঠাকুরগাঁও সফর শেষ করে ঢাকার বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।






















