ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রতারণার মামলায় বিদিশার জামিন, হাইকোর্টে মিলল স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সাজা হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের মাথায় গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।

সেদিন বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। তবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে দুই বছরের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন বিদিশা সিদ্দিক। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির তার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর চার দিনের মাথায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন বিদিশা।

যে মামলায় সাজা হয়েছিল

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজ করছিলেন মোশাররফ। একপর্যায়ে লোকমারফত তথ্য পেয়ে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।

পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন মোশাররফ। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

চেক দিলেও মেলেনি টাকা

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোশাররফকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয় মামলায়।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেই মামলায় সাজা, গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে জামিন—এভাবেই নতুন করে আলোচনায় এলেন বিদিশা সিদ্দিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতারণার মামলায় বিদিশার জামিন, হাইকোর্টে মিলল স্বস্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সাজা হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের মাথায় গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।

সেদিন বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। তবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে দুই বছরের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন বিদিশা সিদ্দিক। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির তার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর চার দিনের মাথায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন বিদিশা।

যে মামলায় সাজা হয়েছিল

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজ করছিলেন মোশাররফ। একপর্যায়ে লোকমারফত তথ্য পেয়ে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।

পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন মোশাররফ। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

চেক দিলেও মেলেনি টাকা

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোশাররফকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয় মামলায়।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেই মামলায় সাজা, গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে জামিন—এভাবেই নতুন করে আলোচনায় এলেন বিদিশা সিদ্দিক।