৭৮ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে দ্বীপ, সঙ্গে নেপোলিয়নের দুর্গ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ইতালির ভেনিসের কাছে বিক্রি হচ্ছে একটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত দ্বীপ। ক্রেভান নামের দ্বীপটির দাম চাওয়া হয়েছে ৫৫ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নেপোলিয়ন আমলে নির্মিত একটি পুরোনো দুর্গ, যা পরে সংস্কার করে বিলাসবহুল আবাসিক ভবনে রূপ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভেনিসের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরে ভেনিস লেগুনে অবস্থিত ক্রেভানের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ৭০০ বর্গমিটার। চারপাশে সবুজে ঘেরা দ্বীপটি থেকে ভেনিস লেগুনের আশপাশের বেশ কয়েকটি দ্বীপের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
দ্বীপে থাকা আবাসিক ভবনটির আয়তন ২১৫ বর্গমিটার। এতে রয়েছে চারটি শোবার ঘর ও তিনটি বাথরুম। নৌযান ভেড়ানোর জন্য রয়েছে দুটি জায়গা এবং একটি ডক বা নৌঘাট। ক্রেভানে যেতে হলে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়; চাইলে হেলিকপ্টারেও সেখানে পৌঁছানো যায়।
নেপোলিয়নের দুর্গ থেকে বিলাসবহুল বাড়ি
ক্রেভানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা নেপোলিয়ন আমলে নির্মিত পুরোনো দুর্গটি। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে সংস্কার করে আবাসিক ভবনে রূপ দেওয়া হয়।
দ্বীপটি বিক্রির দায়িত্বে থাকা লিওনার্ড লাক্সারি রিয়েল এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দিমিত্রি কর্টি বলেন, ভেনিসে ক্রেভান এমন এক ধরনের সুবিধা দিচ্ছে, যা দিন দিন বিরল হয়ে উঠছে। শহরের খুব কাছাকাছি থেকেও এখানে প্রায় সম্পূর্ণ নিরিবিলি ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশ উপভোগ করা সম্ভব।
কর্টির ভাষ্য, প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত দ্বীপটি থেকে বুরানো ও তোরচেল্লো দ্বীপের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রকৃতি, ব্যক্তিগত পরিসর এবং ইতিহাস—এই তিনের সমন্বয়ই ক্রেভানকে অন্যরকম করে তুলেছে।
পাশে বুরানো, তোরচেল্লোও
ক্রেভানের কাছেই রয়েছে ভেনিসের বিখ্যাত দ্বীপ বুরানো। রঙিন বাড়িঘরের কারণে দ্বীপটি ‘ভেনিসের সবচেয়ে রঙিন দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী লেস ও কাচের কাজের জন্যও রয়েছে এর আলাদা খ্যাতি।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী তোরচেল্লো দ্বীপে বসবাস করেন মাত্র প্রায় এক ডজন মানুষ। নিরিবিলি এই দ্বীপে স্থানীয় ইতিহাস ও কিংবদন্তির নানা নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে ‘আত্তিলার সিংহাসন’ নামে পরিচিত একটি রহস্যময় মার্বেল আসনও রয়েছে।
বর্তমান আবাসিক ভবনটি মূলত পুরোনো দুর্গের কাঠামো ধরে সংস্কার করা হয়েছে। ফলে নতুন মালিক শুধু একটি ব্যক্তিগত বাড়িই নয়, ভেনিস লেগুনের ইতিহাসের একটি অংশেরও মালিক হবেন বলে মন্তব্য করেছেন দিমিত্রি কর্টি।
























