ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসস্তূপ থেকেই জীবনের পথে নেপাল!

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েও জীবনের লড়াই থামেনি। ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ ভাঙার বিপর্যয়ের পর নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় এখনও মিলছে আশার খবর। বিধ্বস্ত ত্রিশূলী বাজার থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার রাতে এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নেপাল থেকে ১৬৯ ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ২৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তৎপরতা চলছে।

উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশুও। তাঁরা হলেন অভিজিৎ সুরেশ পাওয়ার, দীপিকা অভিজিৎ পাওয়ার ও সমর্থ অভিজিৎ পাওয়ার। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একই পরিবারের সদস্য।

গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানের তোড়ে ত্রিশূলী বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে যায়। সেই ধ্বংসযজ্ঞের পরও কয়েক দিন ধরে কীভাবে তারা প্রাণে বেঁচে ছিলেন, তা এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নিখোঁজ ভারতীয়দের বিষয়ে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কারও সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত স্বজনদের জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিপর্যস্ত নেপালের জন্য ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাও অব্যাহত রেখেছে ভারত।

তবে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নিখোঁজের সংখ্যা কম মনে হলেও বাস্তবে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

ওলি বলেন, হড়পা বানের স্রোতে কে কোথায় ভেসে গেছে, তা নির্ণয় করা কঠিন। চিতওয়ান ও ভারত সীমান্তেও অনেকের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, নিখোঁজ অনেকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

এখন পর্যন্ত নেপালে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যেই আরও বড় বিপদের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন ওলি। তাঁর ভাষ্য, হিমবাহের সামান্য একটি অংশ ভেঙেই এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে। বড় কোনো অংশ ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা তাই নেপালের বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধান এবং নতুন বিপর্যয় ঠেকানো—দুই দিকেই এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে উদ্ধারকারী দল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ধ্বংসস্তূপ থেকেই জীবনের পথে নেপাল!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েও জীবনের লড়াই থামেনি। ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ ভাঙার বিপর্যয়ের পর নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় এখনও মিলছে আশার খবর। বিধ্বস্ত ত্রিশূলী বাজার থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার রাতে এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নেপাল থেকে ১৬৯ ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ২৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তৎপরতা চলছে।

উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশুও। তাঁরা হলেন অভিজিৎ সুরেশ পাওয়ার, দীপিকা অভিজিৎ পাওয়ার ও সমর্থ অভিজিৎ পাওয়ার। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একই পরিবারের সদস্য।

গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানের তোড়ে ত্রিশূলী বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে যায়। সেই ধ্বংসযজ্ঞের পরও কয়েক দিন ধরে কীভাবে তারা প্রাণে বেঁচে ছিলেন, তা এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নিখোঁজ ভারতীয়দের বিষয়ে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কারও সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত স্বজনদের জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিপর্যস্ত নেপালের জন্য ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাও অব্যাহত রেখেছে ভারত।

তবে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নিখোঁজের সংখ্যা কম মনে হলেও বাস্তবে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

ওলি বলেন, হড়পা বানের স্রোতে কে কোথায় ভেসে গেছে, তা নির্ণয় করা কঠিন। চিতওয়ান ও ভারত সীমান্তেও অনেকের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, নিখোঁজ অনেকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

এখন পর্যন্ত নেপালে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যেই আরও বড় বিপদের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন ওলি। তাঁর ভাষ্য, হিমবাহের সামান্য একটি অংশ ভেঙেই এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে। বড় কোনো অংশ ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা তাই নেপালের বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধান এবং নতুন বিপর্যয় ঠেকানো—দুই দিকেই এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে উদ্ধারকারী দল।