বাধা এলে মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছাব: শফিকুর রহমান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
জনগণের অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে তারা রাজপথে নামেননি। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ছয় দফার সঙ্গে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও একটি দাবি যুক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব তারা মেনে নেবেন না।
দেশের মানুষের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে জনগণ অতিষ্ঠ। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সিফাত নামের এক তরুণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার প্রতিবাদের ভাষা সমর্থন না করলেও যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, সে বিষয়ে দেশের মানুষ প্রয়োজনে তার মতোই প্রতিবাদে সোচ্চার হবে।
সিফাতকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেওয়া উচিত। তা না হলে অতীতের নূর হোসেন, ইয়াসমিন ও ডাক্তার মিলনের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন।
লংমার্চে বাধা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পূরণ করতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। গন্তব্যের পথে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই তারা সামনে এগিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে জনগণও কাউকে ছাড় দেবে না। অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও চলবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ১১ দলীয় ঐক্য দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাবে এবং জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
লংমার্চের পথে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।





















