ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক, ভেতরে আরও অনেকে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এতে আটকে পড়া অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা জেগেছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় চলমান ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন।

রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৪০ শ্রমিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ নয় দিন ধরে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারীরা তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন।

শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয় সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে। সঞ্জয় প্রকল্পটির মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধারের পর দুজনকেই অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা রাম নেউপানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের উদ্ধারের খবর জানান।

‘ও নতুন জীবন পেয়েছে’

কবীর মহারাজনের স্ত্রী নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বামীর বেঁচে ফেরাকে দ্বিতীয় জন্ম হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিনি বলেন, “ও নতুন জীবন পেয়েছে। আমরা প্রচণ্ড খুশি। আমরা সকলে অপেক্ষা করছিলাম। এখন হাসপাতালে যাব ওদের দেখতে।”

ভেতর থেকে ভেসে আসছে আরও কণ্ঠস্বর

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ত্রিশূলী-৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনো আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। ভেতর থেকে কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। ফলে দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তবে হড়পা বানের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির স্রোতে উদ্ধার সরঞ্জামের একটি বড় অংশ ভেসে গেছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখও বন্ধ হয়ে যায়। সীমিত সরঞ্জাম দিয়েই নেপালি সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেক প্রকল্পে মিলল দুই শ্রমিকের মরদেহ

রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অবশ্য জীবিত উদ্ধারের বদলে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫০ মিটার এগিয়ে সেনাবাহিনী তাদের মরদেহের সন্ধান পায়।

ওই প্রকল্পে ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আরও কয়েকজন ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দুর্যোগে ১ হাজার ২৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক, ভেতরে আরও অনেকে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এতে আটকে পড়া অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা জেগেছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় চলমান ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন।

রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৪০ শ্রমিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ নয় দিন ধরে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারীরা তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন।

শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয় সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে। সঞ্জয় প্রকল্পটির মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধারের পর দুজনকেই অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা রাম নেউপানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের উদ্ধারের খবর জানান।

‘ও নতুন জীবন পেয়েছে’

কবীর মহারাজনের স্ত্রী নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বামীর বেঁচে ফেরাকে দ্বিতীয় জন্ম হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিনি বলেন, “ও নতুন জীবন পেয়েছে। আমরা প্রচণ্ড খুশি। আমরা সকলে অপেক্ষা করছিলাম। এখন হাসপাতালে যাব ওদের দেখতে।”

ভেতর থেকে ভেসে আসছে আরও কণ্ঠস্বর

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ত্রিশূলী-৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনো আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। ভেতর থেকে কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। ফলে দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তবে হড়পা বানের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির স্রোতে উদ্ধার সরঞ্জামের একটি বড় অংশ ভেসে গেছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখও বন্ধ হয়ে যায়। সীমিত সরঞ্জাম দিয়েই নেপালি সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেক প্রকল্পে মিলল দুই শ্রমিকের মরদেহ

রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অবশ্য জীবিত উদ্ধারের বদলে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫০ মিটার এগিয়ে সেনাবাহিনী তাদের মরদেহের সন্ধান পায়।

ওই প্রকল্পে ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আরও কয়েকজন ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দুর্যোগে ১ হাজার ২৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।