ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস বলায় সমালোচনা, প্রত্যাহার সচিব শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে অর্থায়নের অভিযোগ, তালিকায় ১২ শিল্প গ্রুপ টিকা না কেনায় হামের প্রকোপ: ইউনূস সরকারের দায় নির্ধারণে তদন্ত ৮৩০ পর্যটক নিয়ে ‘এমভি বার আউলিয়া’র যাত্রা পর্যটকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে? ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে ইসির তোড়জোড় হামের টিকাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকারের দায় খুঁজতে তদন্ত কমিশন চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা অনুমোদনহীন প্ল্যান্টে হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চায় সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি শিবিরের, নিয়োগে দলীয় প্রভাব বন্ধের আহ্বান

উৎপাদন খরচ বাড়ছে, ধানের দাম কম—জয়পুরহাটের আমন চাষিদের দুশ্চিন্তা

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধান চাষে একের পর এক বাড়ছে খরচ। ডিজেল, সার, বীজ, কীটনাশক থেকে শুরু করে কৃষিশ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষে বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়েছে জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের ওপর। বিপরীতে বাজারে ধানের দাম প্রত্যাশিত না হওয়ায় এবারও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি আমন উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলে জমির দামসহ এক বিঘা আমন চাষে খরচ পড়ছে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর একই জমিতে সর্বোচ্চ খরচ ছিল প্রায় ২১ হাজার টাকা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলের দাম বাড়ায় পাওয়ার টিলার মালিকরা চাষের খরচও বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত মৌসুমের তুলনায় বিঘাপ্রতি হাল চাষে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। রোপণের ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। এ ছাড়া সারের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কীটনাশকে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বীজ ও সেচের ব্যয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ফসল চাষ করে এখন আর লাভ থাকছে না। আলুতে লোকসানের পর ঋণ করে বোরো চাষ করেছিলেন। কিন্তু ধান বিক্রি করেও প্রত্যাশিত দাম পাননি। এতে বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

তার ভাষ্য, আগে পাওয়ার টিলারে বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হলেও এবার দিতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাশাপাশি ৮০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। ফলে এবার বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার তারাকুল গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের পর ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। আমনেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে তাদের সামনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষকদের আশঙ্কা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ আমন ধান পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম না পেলে গত আলু ও বোরো মৌসুমের মতো আমনেও লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন, সে জন্য ফলন বাড়াতে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তবে কৃষকদের মূল দাবি একটাই—উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে বাড়তি খরচের বোঝা কাঁধে নিয়ে আমন চাষও তাদের জন্য আরেকটি লোকসানের মৌসুমে পরিণত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উৎপাদন খরচ বাড়ছে, ধানের দাম কম—জয়পুরহাটের আমন চাষিদের দুশ্চিন্তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ধান চাষে একের পর এক বাড়ছে খরচ। ডিজেল, সার, বীজ, কীটনাশক থেকে শুরু করে কৃষিশ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষে বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়েছে জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের ওপর। বিপরীতে বাজারে ধানের দাম প্রত্যাশিত না হওয়ায় এবারও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি আমন উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলে জমির দামসহ এক বিঘা আমন চাষে খরচ পড়ছে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর একই জমিতে সর্বোচ্চ খরচ ছিল প্রায় ২১ হাজার টাকা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলের দাম বাড়ায় পাওয়ার টিলার মালিকরা চাষের খরচও বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত মৌসুমের তুলনায় বিঘাপ্রতি হাল চাষে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। রোপণের ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। এ ছাড়া সারের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কীটনাশকে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বীজ ও সেচের ব্যয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ফসল চাষ করে এখন আর লাভ থাকছে না। আলুতে লোকসানের পর ঋণ করে বোরো চাষ করেছিলেন। কিন্তু ধান বিক্রি করেও প্রত্যাশিত দাম পাননি। এতে বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

তার ভাষ্য, আগে পাওয়ার টিলারে বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হলেও এবার দিতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাশাপাশি ৮০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। ফলে এবার বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার তারাকুল গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের পর ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। আমনেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে তাদের সামনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষকদের আশঙ্কা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ আমন ধান পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম না পেলে গত আলু ও বোরো মৌসুমের মতো আমনেও লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন, সে জন্য ফলন বাড়াতে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তবে কৃষকদের মূল দাবি একটাই—উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে বাড়তি খরচের বোঝা কাঁধে নিয়ে আমন চাষও তাদের জন্য আরেকটি লোকসানের মৌসুমে পরিণত হতে পারে।