ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সবুজ বসতি’ গড়তে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারলেই একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। তিনি বলেন, “দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।”

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, উপযুক্ত পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে।

তিনি ঔষধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয় ও বিপন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ পরিহারের আহ্বান জানান।

সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে অভিনব এক প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবারে নতুন শিশু জন্ম নিলে তার স্মরণে একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে যেমন শিশুর বেড়ে ওঠার স্মৃতি থাকবে, তেমনি দেশের সবুজও বাড়বে।

শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাগানো গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠা ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেন তিনি।

তিনি বন উজাড়, পাহাড় কাটা, নদী ও জলাভূমি দখল এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী রক্ষা না করতে পারলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এজন্য সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের নগরাঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি ‘রিডিউস, রি-ইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি আর)’ নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নাগরিকদের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান।

পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড’ চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। এছাড়া বনায়ন কর্মসূচির অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন।

এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘সবুজ বসতি’ গড়তে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারলেই একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। তিনি বলেন, “দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।”

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, উপযুক্ত পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে।

তিনি ঔষধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয় ও বিপন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ পরিহারের আহ্বান জানান।

সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে অভিনব এক প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবারে নতুন শিশু জন্ম নিলে তার স্মরণে একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে যেমন শিশুর বেড়ে ওঠার স্মৃতি থাকবে, তেমনি দেশের সবুজও বাড়বে।

শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাগানো গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠা ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেন তিনি।

তিনি বন উজাড়, পাহাড় কাটা, নদী ও জলাভূমি দখল এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী রক্ষা না করতে পারলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এজন্য সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের নগরাঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি ‘রিডিউস, রি-ইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি আর)’ নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নাগরিকদের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান।

পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড’ চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। এছাড়া বনায়ন কর্মসূচির অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন।

এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।