ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী সংসদ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের অর্জন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এটি বিএনপির ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্যই ছিল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।”

পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কর্তৃত্ববাদী শাসনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার শুরু থেকেই সংশোধনীর বিতর্কিত বিষয়গুলোকে সংবিধানবিরোধী বলে মনে করে এসেছে।

তার ভাষায়, হাইকোর্ট যে অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রেখেছেন। ফলে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত।

আইনমন্ত্রী জানান, আদালতের রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা জনমত যাচাই (পাবলিক কনসালটেশন) এবং গণভোটের (রেফারেন্ডাম) মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখিত ৫৪টি বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান বিবেচ্য হবে ‘জুলাই সনদ’। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ যেসব ধারায় অস্পষ্টতা বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও আদালতের রায় ও জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কয়েকটি আইনের খসড়া নিয়ে জনপরামর্শ করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়েও জনমত গ্রহণ করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আরও জানান, পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আপিল বিভাগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করে দেয়। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আগামী সংসদ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের অর্জন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এটি বিএনপির ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্যই ছিল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।”

পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কর্তৃত্ববাদী শাসনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার শুরু থেকেই সংশোধনীর বিতর্কিত বিষয়গুলোকে সংবিধানবিরোধী বলে মনে করে এসেছে।

তার ভাষায়, হাইকোর্ট যে অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রেখেছেন। ফলে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত।

আইনমন্ত্রী জানান, আদালতের রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা জনমত যাচাই (পাবলিক কনসালটেশন) এবং গণভোটের (রেফারেন্ডাম) মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখিত ৫৪টি বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান বিবেচ্য হবে ‘জুলাই সনদ’। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ যেসব ধারায় অস্পষ্টতা বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও আদালতের রায় ও জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কয়েকটি আইনের খসড়া নিয়ে জনপরামর্শ করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়েও জনমত গ্রহণ করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আরও জানান, পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আপিল বিভাগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করে দেয়। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হয়।