৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় ৫৩ কোটি—বিতর্কিত ‘ইন্টিগ্রেট’ প্রকল্প বাতিল

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষের সহায়তার নামে প্রস্তাবিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বহুল সমালোচিত ‘ইন্টিগ্রেট’ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটিতে মাত্র ৮ কোটি টাকার অনুদান বিতরণের বিপরীতে প্রশাসনিক ব্যয়, পরামর্শক নিয়োগ, অফিস পরিচালনা ও ভ্রমণ বাবদ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব থাকায় এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ওই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।”
পিইসি সভায় ওঠে একাধিক প্রশ্ন
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির ব্যয় কাঠামো, উপকারভোগী নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের তুলনায় আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়নি।
সভায় বিদেশ সফর, বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, অফিস পরিচালনা ব্যয় এবং প্রকল্পের সময়োপযোগিতা নিয়েও আপত্তি ওঠে।
৬১ কোটি টাকার প্রকল্প, সহায়তা মাত্র ৮ কোটি
জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জিআইজেড)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৬১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল।
প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের ৩০০ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
তবে প্রকল্পের মোট বাজেটের মধ্যে উপকারভোগীদের অনুদান হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ ছিল প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা খাতে।
পরামর্শক, অফিস ও বিদেশ সফরে বিপুল ব্যয়
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী—
- দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
- ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অফিস ভাড়ার জন্য রাখা হয়েছিল প্রায় ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
- বিদেশ সফরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
- অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বাবদ বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির মধ্যেও এসব খাতে বিপুল বরাদ্দের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নীতিগতভাবেই বাতিলের সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিইসি সভার আগেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয় এবং নীতিগতভাবে এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন ব্যয় কাঠামোর কোনো প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ নেই।
এক কর্মকর্তা বলেন, “যে প্রকল্পে মূল সুবিধাভোগীদের চেয়ে প্রশাসনিক ব্যয় কয়েক গুণ বেশি, সেটি জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়নি।”



















