সংসদে জামায়াত আমির
হাসপাতালের মেঝেতে রোগীর শুয়ে থাকা লজ্জাজনক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো বিভিন্ন দেশের মডেল ‘কপি-পেস্ট’ করে পরিচালিত হচ্ছে। এই জোড়াতালির ব্যবস্থা পরিবর্তন করে শতভাগ রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, নতুন হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট দূর করা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা এখন বেশি জরুরি।
বাজেট আলোচনায় দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাবকে দেশের উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, তেমনি বাজেট অপচয় ও দুর্নীতির আগাম সংকেত শনাক্ত করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষা খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে অনেক পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বৈশ্বিক শিক্ষা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষার দুরবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. শফিকুর রহমান কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় যুক্ত করা ছাড়া জাতীয় সংহতি শক্তিশালী হবে না।
অর্থনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ কর কাঠামো তৈরি করা গেলে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে আগ্রহী হবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


















