সিলেটে ডিমের দাম লাগামহীন, প্রতিদিনই বাড়ছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ডিমের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে, এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাজারে সংকট দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বন্দরবাজার, সুবিদবাজার, শিবগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলীসহ বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম এখন লাগামহীন। বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।
অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, নিত্যপণ্যের দামের চাপের মধ্যে ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তাদের দাবি, বাজারে কোনো কার্যকর তদারকি না থাকায় অসাধু চক্র সুযোগ নিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও এবার অল্প সময়ের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ডিমের উৎপাদন ক্রমাগত বাড়লেও বাজার স্থিতিশীল থাকছে না। সর্বশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে দুই হাজার ৪৪০ কোটি পিসের বেশি ডিম উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি পিস ডিম উৎপাদন হচ্ছে।
তারপরও বাজারে অস্থিরতা থাকায় ডিমের দাম প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজারে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, করপোরেট কোম্পানি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “মোবাইল ফোনে সমিতিভিত্তিক দাম নির্ধারণ করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।”
তার দাবি, বর্ষা মৌসুম, সবজির দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে এর সুফল প্রান্তিক খামারিরা পাচ্ছেন না।
এদিকে বাজারে ডিম মজুতের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ১০–১৫ দিন ভালো থাকে এবং হিমাগারে আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব, ফলে কৌশলে পুরোনো ডিম বিক্রি করে নতুন ডিম মজুত করা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজার তদারকি না থাকায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, দেশে দৈনিক সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। কাজী ফার্মস, প্যারাগন, সিপি বাংলাদেশসহ বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বড় অংশের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করলেও বাকি সরবরাহ আসে প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে।
সিলেটের সাধারণ মানুষ দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।





















