ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনা

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

মাসুদ রানা,পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভার ইছামতী নদীর তীরবর্তী ডাইকের পাশে একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে উপজেলা পরিষদে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামে অংশ নিতে ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা আবেদন করেন।

তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হলে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় নিলাম শুরু হলে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। পরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, নিলাম প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার কারণে তারা অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ান।

অন্যদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতা মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতেই শেষ মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

তবে সাঁথিয়া পৌরসভার সংশ্লিষ্ট হাট ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই স্থানে কোনো অস্থায়ী হাট বসানো হচ্ছে না এবং তারা নির্ধারিত অন্য হাটে পশুর হাট পরিচালনা করবেন।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, “ইছামতী নদীর ডাইকের পাশের স্থানটি এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংঘর্ষ এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং এবং দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাবনা

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভার ইছামতী নদীর তীরবর্তী ডাইকের পাশে একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে উপজেলা পরিষদে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামে অংশ নিতে ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা আবেদন করেন।

তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হলে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় নিলাম শুরু হলে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। পরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, নিলাম প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার কারণে তারা অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ান।

অন্যদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতা মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতেই শেষ মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

তবে সাঁথিয়া পৌরসভার সংশ্লিষ্ট হাট ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই স্থানে কোনো অস্থায়ী হাট বসানো হচ্ছে না এবং তারা নির্ধারিত অন্য হাটে পশুর হাট পরিচালনা করবেন।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, “ইছামতী নদীর ডাইকের পাশের স্থানটি এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংঘর্ষ এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং এবং দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।