উত্তরবঙ্গ রুটে ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় আবারও যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যমুনাসেতুর প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জানা গেছে, জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো পুরোপুরি উন্নত হয়নি। এ অংশে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় সড়ক সংকুচিত রয়েছে।
এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু অংশে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংকীর্ণ সড়ক ও চলমান নির্মাণকাজের কারণে যানবাহনের চাপ বাড়লেই দ্রুত যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনাসেতুর প্রবেশমুখে ‘বটলনেক’ পরিস্থিতিই মূল সমস্যা। চার লেন মহাসড়কে দ্রুতগতিতে গাড়ি এলেও সেতুতে প্রবেশের সময় চাপ তৈরি হয়, যা দীর্ঘ সারিতে পরিণত হয়। ঈদের সময় এ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়, কারণ সাধারণ দিনে যেখানে ১০–১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় তা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাসড়কের ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, অবৈধ পার্কিং, নিয়মবহির্ভূত যাত্রী ওঠানামা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও যানজটের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনের চাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
প্রতি বছর ঈদের সময় একই ধরনের সংকট তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণ বা বিদ্যমান সেতুর সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে মহাসড়কে অতিরিক্ত নজরদারি, সার্বক্ষণিক টোল কার্যক্রম এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















