ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমিককে হত্যা করে মরদেহ টুকরো, গ্রেপ্তার তাসলিমা বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী Mokarram Mia হত্যা মামলার মূল আসামি Taslima Begum-কে গ্রেপ্তার করেছে Dhaka Metropolitan Police। বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকা থেকে মুগদা থানা পুলিশ ও Counter Terrorism and Transnational Crime ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা এলাকায় প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোন Helena Begum-এর ভাড়া বাসায় ওঠেন।

এর চারদিন পর, ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মান্ডা ১ম গলির একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে Police Bureau of Investigation মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং এ সময়ে বিভিন্নভাবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। গত ১৪ মে সেই টাকা ফেরত চাওয়া ও বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা এবং ভাগ্নি Halima Akter মিলে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা নিহতের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৮ মে Rapid Action Battalion হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেলেনা হত্যার বর্ণনা দেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রেমিককে হত্যা করে মরদেহ টুকরো, গ্রেপ্তার তাসলিমা বেগম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী Mokarram Mia হত্যা মামলার মূল আসামি Taslima Begum-কে গ্রেপ্তার করেছে Dhaka Metropolitan Police। বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকা থেকে মুগদা থানা পুলিশ ও Counter Terrorism and Transnational Crime ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা এলাকায় প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোন Helena Begum-এর ভাড়া বাসায় ওঠেন।

এর চারদিন পর, ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মান্ডা ১ম গলির একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে Police Bureau of Investigation মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং এ সময়ে বিভিন্নভাবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। গত ১৪ মে সেই টাকা ফেরত চাওয়া ও বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা এবং ভাগ্নি Halima Akter মিলে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা নিহতের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৮ মে Rapid Action Battalion হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেলেনা হত্যার বর্ণনা দেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।