ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএনসিসিতে কোরবানির ১১ হাট, ইজারাদারদের মানতে হবে ৩৯ শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১১টি পশুর হাট পরিচালনা করা হবে। এসব হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের জন্য কঠোর ৩৯টি শর্ত আরোপ করেছে সিটি করপোরেশন।

বুধবার গুলশান-২ নগর ভবনে কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় শর্তগুলো তুলে ধরেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান।

শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা বা ফুটপাতে হাট বসানো যাবে না এবং যানজট বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ডিএনসিসি। হাটের বর্জ্য প্রতিদিন অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্গন্ধ বা পরিবেশগত সমস্যা না হয়। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, মশা নিয়ন্ত্রণে ফগিং এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

গবাদিপশুর বিক্রয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল আদায়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামানত বাজেয়াপ্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি হাটে হাসিলের হার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ খরচে পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, পর্যাপ্ত সিসিটিভি, আলোকসজ্জা, পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাট এলাকায় পশু লোড-আনলোড সড়কে করা যাবে না; নির্ধারিত পার্কিং ও ভেতরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক বুথ স্থাপন, জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, ভেটেরিনারি টিম এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের নির্দেশও রয়েছে।

এছাড়া হাট বসানোর স্থান মহাসড়কের পাশে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সড়ক থেকে অন্তত ৫০ গজ দূরে হাট স্থাপন ও ৭ ফুট উঁচু বেড়া দিতে হবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট পরিচালনা করা যাবে এবং সময়সীমা অতিক্রম করা যাবে না।

হাটের মেয়াদ শেষে অস্থায়ী স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় ডিএনসিসি নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে খরচ জামানত থেকে সমন্বয় করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে ইজারা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সভায় ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি ও ইজারাদারেরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিএনসিসিতে কোরবানির ১১ হাট, ইজারাদারদের মানতে হবে ৩৯ শর্ত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১১টি পশুর হাট পরিচালনা করা হবে। এসব হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের জন্য কঠোর ৩৯টি শর্ত আরোপ করেছে সিটি করপোরেশন।

বুধবার গুলশান-২ নগর ভবনে কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় শর্তগুলো তুলে ধরেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান।

শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা বা ফুটপাতে হাট বসানো যাবে না এবং যানজট বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ডিএনসিসি। হাটের বর্জ্য প্রতিদিন অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্গন্ধ বা পরিবেশগত সমস্যা না হয়। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, মশা নিয়ন্ত্রণে ফগিং এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

গবাদিপশুর বিক্রয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল আদায়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামানত বাজেয়াপ্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি হাটে হাসিলের হার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ খরচে পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, পর্যাপ্ত সিসিটিভি, আলোকসজ্জা, পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাট এলাকায় পশু লোড-আনলোড সড়কে করা যাবে না; নির্ধারিত পার্কিং ও ভেতরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক বুথ স্থাপন, জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, ভেটেরিনারি টিম এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের নির্দেশও রয়েছে।

এছাড়া হাট বসানোর স্থান মহাসড়কের পাশে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সড়ক থেকে অন্তত ৫০ গজ দূরে হাট স্থাপন ও ৭ ফুট উঁচু বেড়া দিতে হবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট পরিচালনা করা যাবে এবং সময়সীমা অতিক্রম করা যাবে না।

হাটের মেয়াদ শেষে অস্থায়ী স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় ডিএনসিসি নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে খরচ জামানত থেকে সমন্বয় করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে ইজারা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সভায় ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি ও ইজারাদারেরা উপস্থিত ছিলেন।