ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী বছরের শুরুতে এনসিপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল জয়পুরহাট ডায়াবেটিক সমিতি: আনোয়ারুল সভাপতি, শামস্ মতিন সম্পাদক কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর ফারাক্কা চুক্তি বাস্তবায়নেই বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে সৌদিতে পৌঁছেছেন ৫৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী, মৃত্যু বেড়ে ১৫ জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল টিম ‘অবাঞ্ছিত ডুবে যাওয়ার আগে কৃষকের ধান কেটে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ নোয়াখালীতে মাদক প্রতিরোধে ফুটবল উৎসব ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্মশালা, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডের অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল টিম ‘অবাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৬ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে আন্দোলনকারীরা প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং প্রশাসন তথ্য গোপন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফারজানা তাবাসসুম আরও বলেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি প্রশাসনিক অসততা এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনকারীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সারা রাত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর তাদের সামনে আসেননি। পরে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন, যা আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেন তারা।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল টিম ‘অবাঞ্ছিত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৬ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে আন্দোলনকারীরা প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং প্রশাসন তথ্য গোপন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফারজানা তাবাসসুম আরও বলেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি প্রশাসনিক অসততা এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনকারীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সারা রাত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর তাদের সামনে আসেননি। পরে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন, যা আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেন তারা।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।