ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে ভিড়, অবৈধ মজুতকে দায় দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন কমছে না। গত ১৭ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল ও অকটেন দেশে এসেছে এবং এর বড় অংশ ইতোমধ্যে খালাসও হয়েছে। তবুও ভোগান্তি কমেনি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে মাঠপর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মালয়েশিয়া থেকে আসা ‘ক্যাপ বন্নি’ জাহাজ থেকে ৩৩ হাজার ৩৯৮ টন ডিজেল খালাস করা হয়। একই দিনে ‘এমটি ওয়াকটি’ থেকে আরও ৩৫ হাজার ৩৪৫ টন ডিজেল নামানো হয়। পাশাপাশি ‘এমভি নেভ সাইলো’ হয়ে আসা ২৭ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন খালাস শুরু হয় ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজের মাধ্যমে। শিপিং সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে বড় অঙ্কের জ্বালানি দেশে এসেছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিক্রিও কিছুটা কম। তবুও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে অবৈধ মজুত ও আতঙ্কজনিত ক্রয়কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাইনে দাঁড়ানো ভোক্তাদের অভিযোগ, অনেকেই নিয়ম না মেনে তেল নিচ্ছেন, ডিজেল ও অকটেনের লাইনে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, আবার অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ার বলেন, “মাঠপর্যায়ে সংকট কেন হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। আতঙ্কের কারণেও এমনটা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কথা।”

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই হবে না—অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক জিএম মানজারে খুরশীদ বলেন, মহেশখালীর সংরক্ষণ সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে দ্রুত সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে ভিড়, অবৈধ মজুতকে দায় দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন কমছে না। গত ১৭ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল ও অকটেন দেশে এসেছে এবং এর বড় অংশ ইতোমধ্যে খালাসও হয়েছে। তবুও ভোগান্তি কমেনি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে মাঠপর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মালয়েশিয়া থেকে আসা ‘ক্যাপ বন্নি’ জাহাজ থেকে ৩৩ হাজার ৩৯৮ টন ডিজেল খালাস করা হয়। একই দিনে ‘এমটি ওয়াকটি’ থেকে আরও ৩৫ হাজার ৩৪৫ টন ডিজেল নামানো হয়। পাশাপাশি ‘এমভি নেভ সাইলো’ হয়ে আসা ২৭ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন খালাস শুরু হয় ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজের মাধ্যমে। শিপিং সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে বড় অঙ্কের জ্বালানি দেশে এসেছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিক্রিও কিছুটা কম। তবুও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে অবৈধ মজুত ও আতঙ্কজনিত ক্রয়কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাইনে দাঁড়ানো ভোক্তাদের অভিযোগ, অনেকেই নিয়ম না মেনে তেল নিচ্ছেন, ডিজেল ও অকটেনের লাইনে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, আবার অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ার বলেন, “মাঠপর্যায়ে সংকট কেন হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। আতঙ্কের কারণেও এমনটা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কথা।”

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই হবে না—অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক জিএম মানজারে খুরশীদ বলেন, মহেশখালীর সংরক্ষণ সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে দ্রুত সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।