দেড় মাসের শিশুকে কোলে নিয়েই কারাগারে—আদালত চত্বর ভারী নীরবতায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার আদালত চত্বর তখন ভারী এক নীরবতায় ডুবে আছে। ভেতরে চলছে আইনি প্রক্রিয়া, কিন্তু বাইরে ভেসে আসছে কান্না—একজন মায়ের, যিনি এক হাতে আইন আর অন্য হাতে তার দেড় মাস বয়সী শিশুকে আঁকড়ে ধরেছেন।
শিল্পী বেগম—যুব মহিলা লীগের নেত্রী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে তোলা হলে শেষ পর্যন্ত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।
কিন্তু এই মামলার কাগজপত্রের বাইরে যে দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে, তা আইনি ভাষা নয়—বরং মানবিক এক দৃশ্য।
আদালতের নির্দেশের পর তাকে যখন হাজতখানায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, তখনই দেখা যায়—তার কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান। আদালত প্রাঙ্গণের বারান্দায় বসেই তিনি শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ান, আর চারপাশে নেমে আসে ভারী নীরবতা।
তার আইনজীবী জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, তিনি সদ্য সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং এত ছোট শিশুকে নিয়ে কারাবাস মানবিক দিক থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় তার সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনায় নেতৃত্ব বা নির্দেশনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আদালতের আদেশের পর বিকেল গড়িয়ে গেলেও আবহাওয়া ভারী হয়ে থাকে। আদালত প্রাঙ্গণে কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে যায় সময়—একদিকে আইন প্রয়োগের কঠোরতা, অন্যদিকে এক মায়ের বুকের ভেতরের নীরব আর্তনাদ।
তিনি যখন হাজতখানার দিকে নিয়ে যান, তখন শুধু একটি প্রশ্নই বাতাসে ভেসে থাকে—ন্যায়বিচার আর মানবিকতার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা হবে?





















