যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে কী হবে ইরান-আমেরিকার সম্পর্ক?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও অনিশ্চয়তার মেঘ। ইরান-আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে—আর ঠিক সেই সময়েই শুরু হয়েছে নতুন প্রশ্ন: শান্তি কি টিকবে, নাকি আবারও উত্তেজনার পথে হাঁটবে দুই দেশ?
এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান ডেভিড এইচ পেট্রিয়াস-এর মন্তব্য। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের শর্ত মানার ওপর।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আলোচনায় আগ্রহী হলেও তার আগে ইরানকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এগোতে হবে—এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়। এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করেই মূলত উত্তেজনার গতি নির্ধারিত হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে, ইরানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনায় তারা অংশ নেবে কি না—সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে কূটনৈতিক টেবিলেও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তা।
এই আলোচনার মধ্যেই নতুন গতি এসেছে ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠককে ঘিরে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও তা নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এক অস্থির কূটনৈতিক ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে। একদিকে আলোচনা ও সম্ভাব্য সমঝোতার আশা, অন্যদিকে শর্ত, অনিশ্চয়তা আর পাল্টাপাল্টি অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি না হয়, তাহলে এই বিরতি খুব বেশি সময় ধরে নাও টিকতে পারে।
মোটকথা, শান্তির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেক শর্ত আর অনেক সংশয়—যা আগামী দিনগুলোকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে





















