ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেষ হলো আন্তর্জাতিক ফাইট নাইটের আসর এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল কন্সট্রাকশন কোম্পানির প্রোপাইটর আকাশে ‘দোতলা বিছানা’! ১৭ ঘণ্টার উড়ানেও ইকোনমি ক্লাসে নিশ্চিন্ত ঘুম আইপিএলে কেন ম্লান বিশ্বের সেরা পেসার বুমরাহ? লেবুর জল কি সত্যিই কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা জ্বালানির নতুন দামে কাঁপছে বাজার, চাপে শ্রমজীবী মানুষ জরুরি বাহিনীর যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার নির্দেশ ভাতকুড়া–নলুয়া সড়ক ফোরলেনের কাজ শিগগিরই শুরু: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে পিকআপ ও সাইকেলের সংঘর্ষে একজন নিহত গাইবান্ধায় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বৈশাখী আড্ডা

ডিআইএ’র তদন্তে জাল সনদধারী ১২৮ শিক্ষক

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ১২৮ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে শনাক্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষকতা করায় তাঁদের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের দেওয়া ২৯ কোটি টাকার বেশি ফেরত নেওয়া এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, খুলনার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) রাবেয়া বেগম (ছদ্মনাম) দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও জমা দেওয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি জাল বলে শনাক্ত হয়েছে তদন্তে। এ কারণে তাঁর নেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। এই তদন্তে ১২৮ জন শিক্ষকের সনদ জাল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। গত রোববার এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জাল সনদধারী ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ৯৩ জন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং বাকি ৩৫ জন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া মোট ২৯ কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর আগেও ডিআইএর তদন্তে বহু জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংস্থাটির তদন্তে (২০২১ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল) ১৫৪ জন শিক্ষককে জাল সনদধারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারও আগে ২০২৩ সালের ১৮ মে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে (২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল) ৬৭৮ জন শিক্ষককে জাল সনদে চাকরি করার দায়ে চাকরিচ্যুত করা, বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ফেরত নেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়ের তদন্তে মোট ১ হাজার ১৫৬ জন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ হলো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা করা। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিআইএর একের পর এক তদন্তে শিক্ষকদের জাল সনদের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় আসার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া ঘৃণিত অপরাধ।”

শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার আগে তাঁর শিক্ষাগত সনদপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, জাল সনদের তথ্য জানা থাকলেও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে অনলাইনে সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর জাল সনদের ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ডিআইএর সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। ডিআইএ সূত্র বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে জাল সনদে শিক্ষকতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলেও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে তা বাদ দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কারও সনদ জাল হলে তা কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, সনদ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।

ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে ১২৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ ধরা পড়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, “জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অতীতেও তদন্তে শনাক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম চলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিআইএ’র তদন্তে জাল সনদধারী ১২৮ শিক্ষক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

খুলনার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ১২৮ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে শনাক্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষকতা করায় তাঁদের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের দেওয়া ২৯ কোটি টাকার বেশি ফেরত নেওয়া এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, খুলনার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) রাবেয়া বেগম (ছদ্মনাম) দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও জমা দেওয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি জাল বলে শনাক্ত হয়েছে তদন্তে। এ কারণে তাঁর নেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। এই তদন্তে ১২৮ জন শিক্ষকের সনদ জাল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। গত রোববার এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জাল সনদধারী ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ৯৩ জন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং বাকি ৩৫ জন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া মোট ২৯ কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর আগেও ডিআইএর তদন্তে বহু জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংস্থাটির তদন্তে (২০২১ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল) ১৫৪ জন শিক্ষককে জাল সনদধারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারও আগে ২০২৩ সালের ১৮ মে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে (২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল) ৬৭৮ জন শিক্ষককে জাল সনদে চাকরি করার দায়ে চাকরিচ্যুত করা, বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ফেরত নেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়ের তদন্তে মোট ১ হাজার ১৫৬ জন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ হলো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা করা। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিআইএর একের পর এক তদন্তে শিক্ষকদের জাল সনদের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় আসার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া ঘৃণিত অপরাধ।”

শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার আগে তাঁর শিক্ষাগত সনদপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, জাল সনদের তথ্য জানা থাকলেও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে অনলাইনে সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর জাল সনদের ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ডিআইএর সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। ডিআইএ সূত্র বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে জাল সনদে শিক্ষকতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলেও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে তা বাদ দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কারও সনদ জাল হলে তা কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, সনদ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।

ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে ১২৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ ধরা পড়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, “জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অতীতেও তদন্তে শনাক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম চলতে পারে।