মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তিতে যুদ্ধবিরতির ডাক রাশিয়া–আমিরাতের
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
সোমবার (২ মার্চ) দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়েই দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা বর্তমান পরিস্থিতিকে “দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়বে।
মস্কোর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে তারা “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন” হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘ-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ওপর সরাসরি হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।
আলোচনায় দুই নেতা একমত হন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সামরিক উপায়ে সমাধানযোগ্য নয়। বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সে কারণে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার টেবিলে প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অন্যদিকে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইরানের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রুশ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন যে আমিরাতের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। ফলে আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলাকে তিনি “অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-সহ একাধিক দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তেলের বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই যৌথ যুদ্ধবিরতির আহ্বান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে বাস্তবে যুদ্ধবিরতি কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবুও সংলাপ শুরু হলে অন্তত উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে—এমনটাই আশা কূটনৈতিক মহলের।























