ধর্মপাশায় প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর, নীরব পুলিশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৩৩২ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের হিজলা ঢল নদীর পাড়ে শামিয়ানা টাঙিয়ে কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। জুয়াড়িরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না। এলাকাবাসী অভিযোগ তাঁরা এ বিষয়ে পুলিশের কাছে একাধিক বার অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু জুয়া খেলা বন্ধে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।
উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের হারুন মিয়া ছেলে প্রভাবশালী ব্যাক্তি কুখ্যাতু জুয়াড় দৌয়লা মিয়া নেতৃত্বে গত ৩মাস ধরে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসরটি পরিচালিত হয়েছে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের ঢল নদীর পাড়ে শামিয়ানা টাঙিয়ে বসানো হয় জমজমাট লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের হারুন মিয়া ছেলে প্রভাবশালী ব্যাক্তি কুখ্যাতু জুয়াড়ি দৌয়লা মিয়া নেতৃত্বে ছয়-সাতজন যুবক এ আসরের আয়োজন করে আসছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দেড়শতাধিক জুয়াড়ি এতে অংশ নেন।
। অনুসন্ধান জানা গেছে, উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। জুয়ার প্রতি আসক্ত হচ্ছে এলাকার লেগুনা চালক,রিক্সাওয়ালা,কর্মক্ষেত্রের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ঝুঁকে পড়ছেন এতে। ধর্মপাশায় এসব জুয়াড়িদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপরদিকে ধর্মপাশার উঠতি বয়সের যুবকরা ক্রমেই জুয়া খেলায় আকৃষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। এসব জুয়াড়িদের অর্থ জোগাড় করতে উপজেলার অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এলাকায় বেড়েছে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জুয়াড়ি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পুলিশকে ম্যানেজ করে স্থানীয় দৌয়লা মিয়া নেতৃত্বে এই খেলা চালাচ্ছি।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবদল নেতা বলেন, হিজলা গ্রামে দৌয়লার নেতৃত্বে জুয়ার আসর চলার বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ সময়মতো যায় না।
পাইকুরাটি ইউপি সদস্য ও রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুহেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিজে একাধিকবার থানায় ফোন করেও এ বিষয়ে পুলিশের সহায়তা পাননি। তিনি আরো বলেন, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর পারিচালনা করছেন।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের প্রভাবশালী ব্যাক্তি কুখ্যাতু জুয়াড়ী দৌয়লা মিয়াকে জুয়ার বোর্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি বলে কলটি কেটে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান,উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসলেও পুলিশকে জানিয়ে কোনো প্রতিকার মিলছে না। পুলিশ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি আজ বর্তমান যুব সমাজের একটি অংশ জুয়ার কবলে পড়ে দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় আগের তুলনায় এখন চুরি চিনতাই প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ এনামুল হকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অবাধে জুয়া খেলা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি পরে আপনার সাথে এ বিষয়ে কথা বলব বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাকির হোসাইন বলেন, খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























